নিউইয়র্ক ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ১৯

  • আপডেটের সময় : ০৯:১৭:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে রোববার (২ আগস্ট) ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, তার স্বামী ও পাঁচ বছরের শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত হন। এ ছাড়া খান ইউনিসের আল-কারারায় অন্য একটি ফ্ল্যাটে হামলায় একই পরিবারের আরও ৩ জন প্রাণ হারান। দেইর আল-বালাহে দম্পতিসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহী, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ১ জন, আল-মাওয়াসিতে ১ জন, রিমাল পাড়ায় ড্রোন হামলায় ২ জন এবং গাজা শহরে একটি গাড়িতে হামলায় ৪ জন নিহত হন।

শনিবার দেইর আল-বালাহের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধ গুদামে হামলা চালিয়ে দুটি স্থাপনা ধ্বংস এবং দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইসরায়েল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস করে ওষুধ ও অসুস্থতাকে যুদ্ধের হাতিয়ার করা হচ্ছে। আল জাজিরার সংবাদদাতা মোয়াজ আল-কাহলৌত জানান, সরেজমিনে একটি বিশাল গর্ত দেখা গেছে এবং এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় এই হামলা চালানো হয়।

বিগত ৪৮ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই আবাসিক ভবন ও জনসমাগমে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় শনিবার অন্তত ৮ জন এবং শুক্রবার বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওয়াশিংটনের ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত বোর্ড অব পিস ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।ফিলিস্তিনিদের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ক্রমাগত হামলা ও মানবিক সাহায্যে বাধার কারণে এটি একটি ‘প্রতারণায়’ পরিণত হয়েছে। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মহনদ মুস্তফা জানান যে এসব চুক্তি ইসরায়েলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা নিজস্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে।

অন্যদিকে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহারের শর্তযুক্ত পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানান যে আলোচনা চলাকালে হামলা বন্ধ রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

এদিকে হামাস অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পণ্ড করতেই হামলা ত্বরান্বিত করছে ইসরায়েল। বোর্ড অব পিস-এর প্রধান দূত নিকোলে ম্লাদেনভ জানান যে পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতাকারীরা নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: জাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ১৯

আপডেটের সময় : ০৯:১৭:০২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা সত্ত্বেও উপত্যকাটিতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে রোববার (২ আগস্ট) ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী, তার স্বামী ও পাঁচ বছরের শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত হন। এ ছাড়া খান ইউনিসের আল-কারারায় অন্য একটি ফ্ল্যাটে হামলায় একই পরিবারের আরও ৩ জন প্রাণ হারান। দেইর আল-বালাহে দম্পতিসহ দুই মোটরসাইকেল আরোহী, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ১ জন, আল-মাওয়াসিতে ১ জন, রিমাল পাড়ায় ড্রোন হামলায় ২ জন এবং গাজা শহরে একটি গাড়িতে হামলায় ৪ জন নিহত হন।

শনিবার দেইর আল-বালাহের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের ওষুধ গুদামে হামলা চালিয়ে দুটি স্থাপনা ধ্বংস এবং দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইসরায়েল। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস করে ওষুধ ও অসুস্থতাকে যুদ্ধের হাতিয়ার করা হচ্ছে। আল জাজিরার সংবাদদাতা মোয়াজ আল-কাহলৌত জানান, সরেজমিনে একটি বিশাল গর্ত দেখা গেছে এবং এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় এই হামলা চালানো হয়।

বিগত ৪৮ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই আবাসিক ভবন ও জনসমাগমে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় শনিবার অন্তত ৮ জন এবং শুক্রবার বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ওয়াশিংটনের ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত বোর্ড অব পিস ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাস অস্ত্র ত্যাগে সম্মতি দিলেও ইসরায়েল সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।ফিলিস্তিনিদের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ক্রমাগত হামলা ও মানবিক সাহায্যে বাধার কারণে এটি একটি ‘প্রতারণায়’ পরিণত হয়েছে। কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মহনদ মুস্তফা জানান যে এসব চুক্তি ইসরায়েলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা নিজস্ব ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে।

অন্যদিকে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহারের শর্তযুক্ত পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানান যে আলোচনা চলাকালে হামলা বন্ধ রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। 

এদিকে হামাস অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পণ্ড করতেই হামলা ত্বরান্বিত করছে ইসরায়েল। বোর্ড অব পিস-এর প্রধান দূত নিকোলে ম্লাদেনভ জানান যে পরিস্থিতি শান্ত করতে মধ্যস্থতাকারীরা নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: জাজিরা

Share this news as a Photo Card