নিউইয়র্ক ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগ, হাইকোর্টে স্থগিত

  • আপডেটের সময় : ০৬:২০:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ১১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতির পদে পরিবর্তন এনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিট আবেদনের তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, তার দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগে, গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে সরিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এরপর ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং কলেজটির অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতি পরিবর্তনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি-২০১৯-এর ৭ ধারার বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ওই ধারার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গভর্নিং বডির মনোনয়ন পরিবর্তনের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ উল্লেখ না করে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং যার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি, যা আইনের পরিপন্থী।

এ ছাড়া কোনো কারণ ছাড়াই সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতি পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধির ৭ ধারা এবং সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এমপির স্ত্রীকে কলেজ সভাপতি নিয়োগ, হাইকোর্টে স্থগিত

আপডেটের সময় : ০৬:২০:৩৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতির পদে পরিবর্তন এনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিট আবেদনের তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, তার দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।

কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগে, গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে সরিয়ে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এরপর ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং কলেজটির অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতি পরিবর্তনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির (সংশোধিত) সংবিধি-২০১৯-এর ৭ ধারার বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ওই ধারার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গভর্নিং বডির মনোনয়ন পরিবর্তনের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ উল্লেখ না করে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং যার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি, যা আইনের পরিপন্থী।

এ ছাড়া কোনো কারণ ছাড়াই সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতি পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধির ৭ ধারা এবং সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।

Share this news as a Photo Card