নিউইয়র্ক প্রতিনিধি:যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার বাংলাদেশ স্ট্রিটে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হামলার অভিযোগে অপর এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ আগস্ট সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে (বাংলাদেশ স্ট্রিট) একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান চলছিল।
অনুষ্ঠান চলাকালে পূর্বের সাংগঠনিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় ব্যাপক হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। মারামারির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অস্ত্র বা বন্দুক থাকার আশঙ্কায় উপস্থিত মানুষজনকে চিৎকার করতে দেখা যায়। এই সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসীদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শিহাব মারাত্মকভাবে মারধরের শিকার ও রক্তাক্ত জখম হন।
উপস্থিত স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, মারামারির খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ (NYPD) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাহুলকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ দাবি করেছেন, সম্প্রতি গঠিত যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসানের পদত্যাগের দাবি এবং নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতর ক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রবাসের মাটিতে দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের এমন সহিংস কর্মকাণ্ডে সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতির দিকে না যায়, সেজন্য সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে এবং দলীয় গঠনতন্ত্র (Constitution) অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” একই সাথে নেতৃবৃন্দ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনা নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।


























