নিউইয়র্ক ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে গ্যাস সংকটের প্রভাব, রান্নাঘর থেকে সিএনজি পাম্পে ভোগান্তি

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩৩:৩৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ সংকটে অধিকাংশ পরিবার রান্না করতে পারেনি। একই সঙ্গে গ্যাস না থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের।

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বরং গ্রাহকদের আপাতত বিকল্প ব্যবস্থায় রান্নার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাসের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪ হাজার ১৫৫টি আবাসিক সংযোগ, ৫২টি কলোনি সংযোগ, ২৮টি বাণিজ্যিক, দুটি শিল্প, দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং দুটি জেনারেটর সংযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জেলার প্রায় ৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৫০টি লেগুনা, ৪৫০টি কার ও মাইক্রোবাস এবং শতাধিক বাস-ট্রাক এই গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই চুলার গ্যাসের চাপ কমে যায়। প্রথমে অনেকে সাময়িক সমস্যা মনে করলেও পরে দেখা যায়, প্রায় পুরো শহরেই একই অবস্থা। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সামান্য গ্যাস এলেও তা রান্নার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও। শহরের সিনথিয়া ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাননি অনেক চালক। অনেকে রাত পর্যন্ত পাম্পে অবস্থান করেন।

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী (আবিকা প্রধান) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সুনামগঞ্জে গ্যাস সংকটের প্রভাব, রান্নাঘর থেকে সিএনজি পাম্পে ভোগান্তি

আপডেটের সময় : ০৭:৩৩:৩৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ সংকটে অধিকাংশ পরিবার রান্না করতে পারেনি। একই সঙ্গে গ্যাস না থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের।

গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বরং গ্রাহকদের আপাতত বিকল্প ব্যবস্থায় রান্নার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাসের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪ হাজার ১৫৫টি আবাসিক সংযোগ, ৫২টি কলোনি সংযোগ, ২৮টি বাণিজ্যিক, দুটি শিল্প, দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং দুটি জেনারেটর সংযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জেলার প্রায় ৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৫০টি লেগুনা, ৪৫০টি কার ও মাইক্রোবাস এবং শতাধিক বাস-ট্রাক এই গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই চুলার গ্যাসের চাপ কমে যায়। প্রথমে অনেকে সাময়িক সমস্যা মনে করলেও পরে দেখা যায়, প্রায় পুরো শহরেই একই অবস্থা। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সামান্য গ্যাস এলেও তা রান্নার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও। শহরের সিনথিয়া ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাননি অনেক চালক। অনেকে রাত পর্যন্ত পাম্পে অবস্থান করেন।

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী (আবিকা প্রধান) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

Share this news as a Photo Card