নিউইয়র্ক ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪২:৫১ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

চুক্তি সইয়ের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে এই চুক্তি। তবে প্রতিটি দেশ কী ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা কী দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিকল্প নয়।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং সুন্নি-প্রধান দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

২৫৬ যাত্রী নিয়ে ইতালির বিমানবন্দরে ৬ ঘণ্টা ধরে আটকে আছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৭

০৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেটের সময় : ০৫:৪২:৫১ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের প্রতিনিধিরা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

চুক্তি সইয়ের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে এই চুক্তি। তবে প্রতিটি দেশ কী ধরনের সামরিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা কী দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার একটি ধারা রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান কোনো দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিকল্প নয়।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং সুন্নি-প্রধান দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দেশই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জ্বালানি রপ্তানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিন দেশের মধ্যে নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card