নিউইয়র্ক ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ-গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

  • আপডেটের সময় : ০৬:১৮:১২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও পাচারের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।  

এর আগে ট্রাইবুনারের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫ সালে বিএনপি নেতা (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ র‍্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

শনিবার (৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।

ট্রাইব্যুনালের তদন্তে উঠে এসেছে, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই তাকে গুম করা হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মূলত শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল বলে তদন্তে ওঠে এসেছে।

১। তদন্তে নির্দেশদাতা হিসেবে উঠে এসেছে, এর সঙ্গে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি নির্দেশ ও পরিকল্পনা ছিল।

২। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে এই গুম ও নির্যাতনের প্রক্রিয়ায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।

৩। নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের পর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

৪। গুমের শিকার হওয়ার পর তাকে কীভাবে ভারতে পাচার বা পাঠানো হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৫ সালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জিয়াউল আহসানসহ ওই সময়ের র‍্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।দ্রুতই তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের পর ভারতে পাচারে যারা জড়িত ছিল, তাদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরইমধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতে ওঠে এসেছে সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ-গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

আপডেটের সময় : ০৬:১৮:১২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

বিএনপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও পাচারের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।  

এর আগে ট্রাইবুনারের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫ সালে বিএনপি নেতা (বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ র‍্যাব ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

শনিবার (৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।

ট্রাইব্যুনালের তদন্তে উঠে এসেছে, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই তাকে গুম করা হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মূলত শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করা হয়েছিল বলে তদন্তে ওঠে এসেছে।

১। তদন্তে নির্দেশদাতা হিসেবে উঠে এসেছে, এর সঙ্গে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি নির্দেশ ও পরিকল্পনা ছিল।

২। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে এই গুম ও নির্যাতনের প্রক্রিয়ায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।

৩। নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের পর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

৪। গুমের শিকার হওয়ার পর তাকে কীভাবে ভারতে পাচার বা পাঠানো হয়েছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৫ সালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বন্দি রেখে নির্যাতনের ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জিয়াউল আহসানসহ ওই সময়ের র‍্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।দ্রুতই তদন্ত শেষে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের পর ভারতে পাচারে যারা জড়িত ছিল, তাদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরইমধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে মৌখিক জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা, দ্রুতই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি নেওয়া হবে।

তিনি জানান, এছাড়া তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা আইনজীবী সোহেলের জবানবন্দিতে ওঠে এসেছে সালাহউদ্দিন আহমদকে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Share this news as a Photo Card