নিউইয়র্ক ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল পোল্যান্ডের এলপিপি

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে কয়েকজন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের পাওনা পরিশোধ নিয়ে জটিলতার কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখন আগের মতোই বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা পরিচালনা করবে এলপিপি।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং এলপিপি এসএ এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপি এসএর পরিচালক দোরোতা ইয়ানকোভস্কা-তোমকুভ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিজিএমইএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানায়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তৃতীয় পক্ষের বিরোধে এলপিপির সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি তৈরি পোশাক সরবরাহকারীর ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সম্মত হয়েছে বিজিএমইএ ও এলপিপি। এফইএস রিটেইলের দেনা পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য কোনো পক্ষ নয়। তবে এলপিপি প্রতিষ্ঠানটির দেনা পরিশোধে এলপিপি নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।

এফইএস রিটেইলের কাছে অর্থপ্রাপ্তির দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিকট উপস্থাপন করা উচিত, যারা এ জন্য আইনিভাবে দায়বদ্ধ—এলপিপির এই অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে বিজিএমইএ। তবে এলপিপি ও বিজিএমইএ উভয় পক্ষই স্বীকার করে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির সম্মুখীন। এসব দায়দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা আইনিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সঙ্গেই হওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিজিএমইএ ও এলপিপি—উভয় পক্ষ মনে করে যে ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী বা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এলপিপি নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। এই পর্যালোচনা প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ছিল না। এটি এলপিপির সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে প্রভাবিত করে না।

এফইএস রিটেইলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ৪০ রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি অর্থ পাওনা আছে। তাদের দাবি, এলপিপি ঢাকা কার্যালয়ে নিশ্চয়তা পেয়েই তারা প্রতিষ্ঠানটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন।

জানা যায়, রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বকেয়া আদায়ে দুটি বায়িং হাউসের মালিক গত মাসে এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর এলপিপির একাধিক কর্মকর্তাদের বাসায় রাতে পুলিশ অভিযানও চালায়।

গত ২১ জুলাই এলপিপি তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বায়িং হাউসের মালিকদের সংগঠন বিজিবিএকে একটি চিঠিতে জানায়, তারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর ৩১ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানিয়ে দেয়, নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া এবং সরবরাহকারীদের কাছে নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে।

এলপিপির কয়েকজন সরবরাহকারী জানান, বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি ৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছে। চলতি অর্থবছরে এলপিপি ৭৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে। সে অনুযায়ী তারা ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেছিল।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল পোল্যান্ডের এলপিপি

আপডেটের সময় : ০৪:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে কয়েকজন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের পাওনা পরিশোধ নিয়ে জটিলতার কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখন আগের মতোই বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা পরিচালনা করবে এলপিপি।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং এলপিপি এসএ এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এলপিপি এসএর পরিচালক দোরোতা ইয়ানকোভস্কা-তোমকুভ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিজিএমইএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানায়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তৃতীয় পক্ষের বিরোধে এলপিপির সঙ্গে বাংলাদেশের ৩৫০টির বেশি তৈরি পোশাক সরবরাহকারীর ব্যবসা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সম্মত হয়েছে বিজিএমইএ ও এলপিপি। এফইএস রিটেইলের দেনা পরিশোধে আইনিভাবে বাধ্য কোনো পক্ষ নয়। তবে এলপিপি প্রতিষ্ঠানটির দেনা পরিশোধে এলপিপি নিজস্ব আইনি অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে গঠনমূলক সংলাপে সহায়তা করবে।

এফইএস রিটেইলের কাছে অর্থপ্রাপ্তির দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিকট উপস্থাপন করা উচিত, যারা এ জন্য আইনিভাবে দায়বদ্ধ—এলপিপির এই অবস্থানকে বিবেচনায় নিয়েছে বিজিএমইএ। তবে এলপিপি ও বিজিএমইএ উভয় পক্ষই স্বীকার করে, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলো কঠিন বাণিজ্যিক পরিস্থিতির সম্মুখীন। এসব দায়দেনা নিষ্পত্তির যেকোনো আলোচনা আইনিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষের সঙ্গেই হওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিজিএমইএ ও এলপিপি—উভয় পক্ষ মনে করে যে ঢালাও বা বিভ্রান্তিকর কোনো প্রচার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্য প্রস্তুতকারক, কর্মী বা এলপিপি ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এলপিপি নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি তাদের কিছু সোর্সিং কার্যক্রম পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান, আইনি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা। এই পর্যালোচনা প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ছিল না। এটি এলপিপির সব প্রত্যক্ষ চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতিকে প্রভাবিত করে না।

এফইএস রিটেইলের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ৪০ রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি অর্থ পাওনা আছে। তাদের দাবি, এলপিপি ঢাকা কার্যালয়ে নিশ্চয়তা পেয়েই তারা প্রতিষ্ঠানটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন।

জানা যায়, রাশিয়ার ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বকেয়া আদায়ে দুটি বায়িং হাউসের মালিক গত মাসে এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার পর এলপিপির একাধিক কর্মকর্তাদের বাসায় রাতে পুলিশ অভিযানও চালায়।

গত ২১ জুলাই এলপিপি তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বায়িং হাউসের মালিকদের সংগঠন বিজিবিএকে একটি চিঠিতে জানায়, তারা ধীরে ধীরে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর ৩১ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানিয়ে দেয়, নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া এবং সরবরাহকারীদের কাছে নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে।

এলপিপির কয়েকজন সরবরাহকারী জানান, বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি ৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছে। চলতি অর্থবছরে এলপিপি ৭৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক বাংলাদেশ থেকে আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে। সে অনুযায়ী তারা ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করেছিল।

Share this news as a Photo Card