নিউইয়র্ক ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

  • আপডেটের সময় : ০৫:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক হত্যা রহস্যের অবসান হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে মেলিসা ‘মিসি’ টেলর এলিসন নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে তার নিজ বাড়িতে হত্যার ঘটনাটি এত বছর ধরে তদন্তকারীদের কাছে একটি ধাঁধা হয়ে ছিল। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর গ্যারি গ্লোওয়াচ নামের ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় ফোন করে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে নিজের শোবার ঘরে মেলিসার মৃতদেহ খুঁজে পান তার দুই রুমমেট। পাশের ঘরে তখন কাঁদছিল তার মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশুকন্যা ক্যাসি। ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে মেলিসাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দীর্ঘ তদন্তের পরও সে সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে চলতি বছরের ৮ জুলাই ক্লে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে ফোন করেন গ্যারি গ্লোওয়াচ। তিনি পুলিশকে জানান, বহু বছর আগের একটি পুরোনো অপরাধের বিষয়ে তিনি ‘সবকিছু পরিষ্কার’ করতে চান। পরে জ্যাকসনভিল শেরিফের গোয়েন্দাদের কাছে তিনি স্বীকার করেন যে, ১৯৮৭ সালে টাকার খোঁজে ওই বাড়িতে ঢুকে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে মেলিসার মাথায় আঘাত করেছিলেন তিনি।

গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় গ্লোওয়াচের বয়স ছিল ৩২ বছর। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে তিনি মেলিসার বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিলেন। গ্লোওয়াচ জানান, জানালা দিয়ে ঘরে ঢোকার পর তিনি দেখেন মেলিসা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘুমাচ্ছেন। এ সময় ঘরে পড়ে থাকা একটি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তিনি মেলিসার মাথায় আঘাত করেন। এরপর শিশুটিকে কোলে করে পাশের ঘরের সোফায় রেখে এসে তিনি বিছানার নিচে টাকা খুঁজতে থাকেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্লোওয়াচ ঘটনাস্থলের এমন কিছু সূক্ষ্ম বিবরণ দিয়েছেন, যা কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার স্বীকারোক্তির সত্যতা সম্পর্কে তদন্তকারীরা প্রায় নিশ্চিত। গ্লোওয়াচ দাবি করেছেন, চলতি বছরের মার্চে একটি প্রতিবেদন পড়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে, ৩৮ বছর আগে তার ওই আঘাতেই মেলিসার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি জানান, আঘাতের পর ওই তরুণী মারা গেছেন বলে তিনি এত দিন জানতেন না।

বর্তমানে গ্যারি গ্লোওয়াচকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং সশস্ত্র চুরির অভিযোগে ডুভাল কাউন্টি জেলে জামিন ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে।

এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের প্রথম খবর পান মেলিসার মেয়ে ক্যাসি এলিসন, যিনি এখন চল্লিশোর্ধ্ব নারী। মায়ের মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ মাস। দীর্ঘ বছর ধরে মেলিসার পরিবার এই হত্যার বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। ২০১৯ সালে মেলিসার মা ক্যাথরিন টেলর মেয়ের খুনির পরিচয় না জেনেই মারা যান।

২০১৮ সালে এই অমীমাংসিত মামলাটি ‘প্রজেক্ট: কোল্ড কেস’ নামের একটি অলাভজনক সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংগঠনটি এবং মেলিসার পরিবার খুনিকে ধরতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। জ্যাকসনভিল শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, সেই সংবাদ সম্মেলনের পর পাওয়া তথ্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনই মূলত গ্লোওয়াচকে স্বীকারোক্তি দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সন্দেহভাজন ঘাতক গ্রেপ্তার হলেও মেলিসার পরিবারের কাছে এখনো মনে হচ্ছে না যে তারা পুরোপুরি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে দীর্ঘ চার দশক পর অপরাধীর পরিচয় সামনে আসায় পরিবারের শোকের অধ্যায়ে একটি নতুন মোড় এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

আপডেটের সময় : ০৫:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

প্রায় চার দশক ধরে অমীমাংসিত থাকা এক হত্যা রহস্যের অবসান হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে মেলিসা ‘মিসি’ টেলর এলিসন নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে তার নিজ বাড়িতে হত্যার ঘটনাটি এত বছর ধরে তদন্তকারীদের কাছে একটি ধাঁধা হয়ে ছিল। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর গ্যারি গ্লোওয়াচ নামের ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় ফোন করে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে নিজের শোবার ঘরে মেলিসার মৃতদেহ খুঁজে পান তার দুই রুমমেট। পাশের ঘরে তখন কাঁদছিল তার মাত্র ১৩ মাস বয়সী শিশুকন্যা ক্যাসি। ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে মেলিসাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দীর্ঘ তদন্তের পরও সে সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে চলতি বছরের ৮ জুলাই ক্লে কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে ফোন করেন গ্যারি গ্লোওয়াচ। তিনি পুলিশকে জানান, বহু বছর আগের একটি পুরোনো অপরাধের বিষয়ে তিনি ‘সবকিছু পরিষ্কার’ করতে চান। পরে জ্যাকসনভিল শেরিফের গোয়েন্দাদের কাছে তিনি স্বীকার করেন যে, ১৯৮৭ সালে টাকার খোঁজে ওই বাড়িতে ঢুকে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে মেলিসার মাথায় আঘাত করেছিলেন তিনি।

গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় গ্লোওয়াচের বয়স ছিল ৩২ বছর। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে তিনি মেলিসার বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিলেন। গ্লোওয়াচ জানান, জানালা দিয়ে ঘরে ঢোকার পর তিনি দেখেন মেলিসা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘুমাচ্ছেন। এ সময় ঘরে পড়ে থাকা একটি কাঠের গুঁড়ি দিয়ে তিনি মেলিসার মাথায় আঘাত করেন। এরপর শিশুটিকে কোলে করে পাশের ঘরের সোফায় রেখে এসে তিনি বিছানার নিচে টাকা খুঁজতে থাকেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্লোওয়াচ ঘটনাস্থলের এমন কিছু সূক্ষ্ম বিবরণ দিয়েছেন, যা কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার স্বীকারোক্তির সত্যতা সম্পর্কে তদন্তকারীরা প্রায় নিশ্চিত। গ্লোওয়াচ দাবি করেছেন, চলতি বছরের মার্চে একটি প্রতিবেদন পড়ার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে, ৩৮ বছর আগে তার ওই আঘাতেই মেলিসার মৃত্যু হয়েছিল। তিনি জানান, আঘাতের পর ওই তরুণী মারা গেছেন বলে তিনি এত দিন জানতেন না।

বর্তমানে গ্যারি গ্লোওয়াচকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা এবং সশস্ত্র চুরির অভিযোগে ডুভাল কাউন্টি জেলে জামিন ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে।

এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের প্রথম খবর পান মেলিসার মেয়ে ক্যাসি এলিসন, যিনি এখন চল্লিশোর্ধ্ব নারী। মায়ের মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ মাস। দীর্ঘ বছর ধরে মেলিসার পরিবার এই হত্যার বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। ২০১৯ সালে মেলিসার মা ক্যাথরিন টেলর মেয়ের খুনির পরিচয় না জেনেই মারা যান।

২০১৮ সালে এই অমীমাংসিত মামলাটি ‘প্রজেক্ট: কোল্ড কেস’ নামের একটি অলাভজনক সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংগঠনটি এবং মেলিসার পরিবার খুনিকে ধরতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। জ্যাকসনভিল শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, সেই সংবাদ সম্মেলনের পর পাওয়া তথ্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনই মূলত গ্লোওয়াচকে স্বীকারোক্তি দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

সন্দেহভাজন ঘাতক গ্রেপ্তার হলেও মেলিসার পরিবারের কাছে এখনো মনে হচ্ছে না যে তারা পুরোপুরি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে দীর্ঘ চার দশক পর অপরাধীর পরিচয় সামনে আসায় পরিবারের শোকের অধ্যায়ে একটি নতুন মোড় এসেছে বলে মনে করছেন তারা।

Share this news as a Photo Card