নিউইয়র্ক ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাদের-আরাফাতসহ সাত জনের সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ

  • আপডেটের সময় : ০৭:৩০:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন দমনে চায়না রাইফেল, পিস্তল, শটগান থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিলো বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। বুধবার (১২ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এমন তথ্য দেন তিনি।

পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা চেয়ে সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এর আগে টানা পাঁচ দিন এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আন্দোলন দমনে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি, অত্যাধুনিক রাইফেল, পিস্তল, এলএমজি, এসএমজি, শটগান ও রিভলভারসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিলো।

গত পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের ওই আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোট তিন লাখ পাঁচ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এর মধ্যে কেবল ঢাকা মহানগর এলাকাতেই ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়।

মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি এই সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারে ট্রাইব্যুনাল-২–এর কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি হত্যা: ভাষা জটিলতায় অভিযোগ গঠন স্থগিত

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১২

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কাদের-আরাফাতসহ সাত জনের সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ

আপডেটের সময় : ০৭:৩০:২৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলন দমনে চায়না রাইফেল, পিস্তল, শটগান থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিলো বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। বুধবার (১২ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এমন তথ্য দেন তিনি।

পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা চেয়ে সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এর আগে টানা পাঁচ দিন এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আন্দোলন দমনে ৭.৬২ মিলিমিটার গুলি, অত্যাধুনিক রাইফেল, পিস্তল, এলএমজি, এসএমজি, শটগান ও রিভলভারসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিলো।

গত পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের ওই আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোট তিন লাখ পাঁচ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এর মধ্যে কেবল ঢাকা মহানগর এলাকাতেই ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়।

মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি এই সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারে ট্রাইব্যুনাল-২–এর কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

Share this news as a Photo Card