নিউইয়র্ক ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হামলার ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে বিমানে উঠে পালানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৯:১১:০৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই শেষ মুহূর্তে অন্য একটি বিমানে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই। সেদিন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে জানা যায়, তিনি মূল বিমানটিতে না গিয়ে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে গোপনে অন্য একটি সামরিক বিমানে ওঠেন। তার এই আকস্মিক বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি ওই বিমানে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তার কাছেও অজানা ছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের পক্ষ থেকে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তথ্য পেয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা।

তবে ট্রাম্পের দাবি, তিনি যে বিকল্প সামরিক বিমানে উঠেছিলেন সেটিও পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। তার ভাষায়, তাকে নিরাপত্তার কারণে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। ফেরার ক্ষেত্রে তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহারের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোপনে ছোট আকারের সি-৩২এ সামরিক বিমানে ওঠেন তিনি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এই ধরনের বিমান ব্যবহার করেন।

ট্রাম্পের গতিবিধি গোপন রাখতে মূল বিমানটি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘এএফ১’ কল সাইন ব্যবহার করে যাত্রা চালিয়ে যায়। ওই বিমানে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

পরিস্থিতি আরও বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বাইরের একটি সিঁড়ি ব্যবহার করে ওই বিমানে ওঠেন। পরে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে গিয়ে আবার এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন।

এর আগে তুরস্কে সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু’। পরে ওহাইওতে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত নানা ধরনের হুমকি আসে, যার বেশির ভাগের বিষয়ে তিনি নিজেও অবগত নন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার পরদিনই এই গোপন বিমান পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। ফলে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের হুমকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি হত্যা: ভাষা জটিলতায় অভিযোগ গঠন স্থগিত

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ১২

১৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানের হামলার ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে বিমানে উঠে পালানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৯:১১:০৩ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে ফেরার পথে গোপনে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই শেষ মুহূর্তে অন্য একটি বিমানে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই। সেদিন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে জানা যায়, তিনি মূল বিমানটিতে না গিয়ে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে গোপনে অন্য একটি সামরিক বিমানে ওঠেন। তার এই আকস্মিক বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি ওই বিমানে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তার কাছেও অজানা ছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের পক্ষ থেকে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তথ্য পেয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা।

তবে ট্রাম্পের দাবি, তিনি যে বিকল্প সামরিক বিমানে উঠেছিলেন সেটিও পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। তার ভাষায়, তাকে নিরাপত্তার কারণে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। ফেরার ক্ষেত্রে তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান ব্যবহারের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোপনে ছোট আকারের সি-৩২এ সামরিক বিমানে ওঠেন তিনি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এই ধরনের বিমান ব্যবহার করেন।

ট্রাম্পের গতিবিধি গোপন রাখতে মূল বিমানটি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘এএফ১’ কল সাইন ব্যবহার করে যাত্রা চালিয়ে যায়। ওই বিমানে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

পরিস্থিতি আরও বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বাইরের একটি সিঁড়ি ব্যবহার করে ওই বিমানে ওঠেন। পরে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে গিয়ে আবার এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন।

এর আগে তুরস্কে সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু’। পরে ওহাইওতে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে নিয়মিত নানা ধরনের হুমকি আসে, যার বেশির ভাগের বিষয়ে তিনি নিজেও অবগত নন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার পরদিনই এই গোপন বিমান পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। ফলে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের হুমকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card