নিউইয়র্ক ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের উপর ৪ মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে আস্ত গাছ

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ঘরের উপর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া বিশাল আকৃতির একটি গাছ প্রায় চার মাসেও অপসারণ করা হয়নি। এতে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ঘরের উপর বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ পড়ে রয়েছে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছটি টিনশেড ঘরের উপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও গাছটি অপসারণ করা হয়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছটি সরকারি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি চাইলেও নিজেদের উদ্যোগে গাছটি সরাতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়া ঘর ও গাছের কারণে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেমিপাকা ঘরটি মেরামতের দাবি জানান তারা।

সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান বলেন, গত মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল ঘরের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনার দুই দিন পরই সরকারি বিধি মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি। ওই ঘরে শিশু শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হতো এবং আমাদের অফিস রুমও ছিল।

তিনি জানান, গাছটি সরিয়ে ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, গাছটি ভেঙে পড়ার কয়েকদিন পরই সরকারি বিধি অনুযায়ী বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, বন বিভাগ দ্রুত নিলামের কার্যক্রম শেষ করে গাছটি অপসারণ করবে।

সদরপুর উপজেলা বন কমর্কর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন তালুকদার বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে একটি আবেদন দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা, আহত অন্তত ৫ জন

হরমুজ দখলের বিষয়ে ‘মজা’ করেছেন ট্রাম্প: মার্কিন সংবাদমাধ্যম

১৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের উপর ৪ মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে আস্ত গাছ

আপডেটের সময় : ০৪:৫৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ঘরের উপর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া বিশাল আকৃতির একটি গাছ প্রায় চার মাসেও অপসারণ করা হয়নি। এতে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সেমিপাকা ঘরের উপর বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ পড়ে রয়েছে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছটি টিনশেড ঘরের উপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও গাছটি অপসারণ করা হয়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছটি সরকারি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি চাইলেও নিজেদের উদ্যোগে গাছটি সরাতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়া ঘর ও গাছের কারণে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেমিপাকা ঘরটি মেরামতের দাবি জানান তারা।

সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান বলেন, গত মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল ঘরের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনার দুই দিন পরই সরকারি বিধি মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি। ওই ঘরে শিশু শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হতো এবং আমাদের অফিস রুমও ছিল।

তিনি জানান, গাছটি সরিয়ে ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, গাছটি ভেঙে পড়ার কয়েকদিন পরই সরকারি বিধি অনুযায়ী বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, বন বিভাগ দ্রুত নিলামের কার্যক্রম শেষ করে গাছটি অপসারণ করবে।

সদরপুর উপজেলা বন কমর্কর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন তালুকদার বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে একটি আবেদন দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card