নিউইয়র্ক ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে পুরো বাকিতে পণ্য আমদানির সুবিধা

  • আপডেটের সময় : ০৩:২২:২৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি এস এস পাওয়ার-১ কে সকল পণ্য পুরো বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ায় এখন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সকল পণ্য আমদানিতে রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করতে পারবে।

কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে কোনো প্রকার আগাম অর্থ দিতে হবে না।

রোববার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা প্রয়োগ হবে না।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাত বাণিজ্যিক ব্যাংক পুনরুদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরপরই নতুন ঋণ না পেয়ে ও একের পর এক মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রুপটির বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান।

এখন শুধু তাদের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা টিকে আছে। ভোগ্যপণ্যর ব্যবসা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

অর্থ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খেলাপি হয়ে পড়ে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডও।

রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত এসএস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গ্রাহককে শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানি করার সুযোগ চেয়ে রূপালী ব্যাংক অনুমোদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।

তাতে সায় দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইনে যা আছে

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩ (সংশোধিত ২০২৩) এর ২৭ কক(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোন ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না:

‘তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫ এর দফ (গগ) এর বিধান অনুসারে পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপী ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি এটা প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তা হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলানি হওয়ার কারণে ওই গ্রুপভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না।’

‘এবং এরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তার জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আত্মসমর্পণ করে ইরানকে সাদা পতাকা ওড়ানোর আহ্বান ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল

১৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে পুরো বাকিতে পণ্য আমদানির সুবিধা

আপডেটের সময় : ০৩:২২:২৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি এস এস পাওয়ার-১ কে সকল পণ্য পুরো বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ায় এখন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সকল পণ্য আমদানিতে রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করতে পারবে।

কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে কোনো প্রকার আগাম অর্থ দিতে হবে না।

রোববার এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ধারা প্রয়োগ হবে না।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাত বাণিজ্যিক ব্যাংক পুনরুদ্ধার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরপরই নতুন ঋণ না পেয়ে ও একের পর এক মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রুপটির বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান।

এখন শুধু তাদের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা টিকে আছে। ভোগ্যপণ্যর ব্যবসা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

অর্থ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খেলাপি হয়ে পড়ে এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডও।

রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত এসএস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গ্রাহককে শতভাগ মার্জিন সুবিধায় পণ্য আমদানি করার সুযোগ চেয়ে রূপালী ব্যাংক অনুমোদন চায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।

তাতে সায় দিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারা প্রয়োগ থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইনে যা আছে

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩ (সংশোধিত ২০২৩) এর ২৭ কক(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোন ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না:

‘তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৫ এর দফ (গগ) এর বিধান অনুসারে পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপী ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণ গ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট যদি এটা প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তা হলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলানি হওয়ার কারণে ওই গ্রুপভুক্ত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না।’

‘এবং এরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তার জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।’

Share this news as a Photo Card