নিউইয়র্ক ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য, ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ শতাংশের নিচে

  • আপডেটের সময় : ০৩:২২:৫১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমায় ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ এখন জমা হচ্ছে ট্রেজারি বিলে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২১ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমেছে এর সুদহার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার আগের সপ্তাহের ৯.১৯% থেকে কমে বর্তমানে ৮.৯৩%-এ নেমে এসেছে, যা দীর্ঘ সময় পর ৯ শতাংশের নিচে নামল।

একইভাবে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার আগের সপ্তাহের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানান, মূলত দুটি কারণে ট্রেজারি বিলের সুদহার কমছে। প্রথমত, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বর্তমানে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। গত এক বছরে মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের আমানতে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আমানতের সুদহার বাড়ায় ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আমানতের সুদহার গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় ছিল।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম লাভজনক ক্ষেত্র ট্রেজারি বিল। এতে বিনিয়োগ করে ৯ শতাংশের বেশি নিশ্চিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গত কয়েক মাসে বেশি আমানত পাওয়া দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এতে ট্রেজারি বিলের চাহিদা বেড়ে সুদহার কমছে।

ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি বাড়ায় আগস্ট থেকে শীর্ষস্থানীয় অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা বলছেন, ট্রেজারি বিল ও বন্ডে মূলত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এসব সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

২০২৩ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের ৯ শতাংশ সুদসীমা তুলে দিয়ে স্মার্ট (SMART) ভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু করে। এরপর থেকেই মূলত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকে।

সুদহার বাড়তে বাড়তে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একপর্যায়ে ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ব্যাংকাররা বলছেন, এর আগে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগ কখনো এত বেশি ছিল না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কোনো কোনো মাসে প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, আবার কোনো কোনো মাসে ১২ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। ওই সময়ে ব্যাংকভেদে আমানতের সুদহার ছিল ৯ থেকে ১১ শতাংশ।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আত্মসমর্পণ করে ইরানকে সাদা পতাকা ওড়ানোর আহ্বান ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল

১৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য, ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ শতাংশের নিচে

আপডেটের সময় : ০৩:২২:৫১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমায় ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ এখন জমা হচ্ছে ট্রেজারি বিলে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২১ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমেছে এর সুদহার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার আগের সপ্তাহের ৯.১৯% থেকে কমে বর্তমানে ৮.৯৩%-এ নেমে এসেছে, যা দীর্ঘ সময় পর ৯ শতাংশের নিচে নামল।

একইভাবে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার আগের সপ্তাহের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানান, মূলত দুটি কারণে ট্রেজারি বিলের সুদহার কমছে। প্রথমত, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বর্তমানে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। গত এক বছরে মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের আমানতে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আমানতের সুদহার বাড়ায় ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত আমানতের সুদহার গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় ছিল।

দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম লাভজনক ক্ষেত্র ট্রেজারি বিল। এতে বিনিয়োগ করে ৯ শতাংশের বেশি নিশ্চিত মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গত কয়েক মাসে বেশি আমানত পাওয়া দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এতে ট্রেজারি বিলের চাহিদা বেড়ে সুদহার কমছে।

ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি বাড়ায় আগস্ট থেকে শীর্ষস্থানীয় অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা বলছেন, ট্রেজারি বিল ও বন্ডে মূলত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এসব সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

২০২৩ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের ৯ শতাংশ সুদসীমা তুলে দিয়ে স্মার্ট (SMART) ভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু করে। এরপর থেকেই মূলত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকে।

সুদহার বাড়তে বাড়তে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একপর্যায়ে ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ব্যাংকাররা বলছেন, এর আগে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগ কখনো এত বেশি ছিল না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কোনো কোনো মাসে প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, আবার কোনো কোনো মাসে ১২ শতাংশ ছাড়িয়েছিল। ওই সময়ে ব্যাংকভেদে আমানতের সুদহার ছিল ৯ থেকে ১১ শতাংশ।

Share this news as a Photo Card