দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তির খবর পেল ঢাকা আবাহনী। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব। তবে আবাহনীর মুক্তির আনন্দের মধ্যেই ঘরোয়া ফুটবলে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে এখনো জটিলতায় বসুন্ধরা কিংস। নতুন মৌসুম শুরুর আগে তাই মাঠের প্রস্তুতির চেয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কাগজপত্রের জটিলতাই বড় হয়ে উঠেছে।
পাওনা পরিশোধ না করায় গত মৌসুমের শুরুতেই বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে জটিলতায় পড়েছিল আবাহনী। ফিফা দিয়েছিল তিনটি নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে দুটি আগে উঠলেও সিরিয়ার এক ফুটবলারের পাওনা বাকি থাকায় বহাল ছিল শেষ নিষেধাজ্ঞাটি। সেই পাওনাও পরিশোধ হওয়ায় সোমবার নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহার করেছে ফিফা। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ব্যান তালিকা থেকে মুছে গেছে আবাহনীর নাম। ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শেষ দিনে এসে তাই স্বস্তি ফিরেছে আবাহনীতে।
এখন বুধবার ফুটবলার নিবন্ধনের দরজাও খুলছে আবাহনীর সামনে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। নিষেধাজ্ঞা সরাতেই এতদিন ব্যস্ত ছিল ক্লাবের নীতিনির্ধারকরা। দল গঠনে তাই পিছিয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। এর মধ্যেই তাদের কয়েকজন ফুটবলার মোহামেডান ও কিংসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আবাহনী আবার নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ বাতিল।
লিগ চ্যাম্পিয়ন কিংসের সঙ্গে রানার্সআপ আবাহনীর ম্যাচ দিয়েই হওয়ার কথা ছিল মৌসুমের প্রথম শিরোপার লড়াই। দুদলেরই ফিফা-জটিলতায় সেই আয়োজন আর হচ্ছে না। গত দুই মৌসুমে কিংস ও মোহামেডান এই ট্রফির লড়াইয়ে নেমেছিল। দুবারই জয় পেয়েছিল কিংস। ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ এবং ২৮ আগস্ট লিগ শুরুর সূচি রয়েছে। অথচ কিংসের এখনো ১০টি নিষেধাজ্ঞা।
বাফুফের সঙ্গে সভায় ক্লাবটির প্রতিনিধি কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী আরও সাত কর্মদিবস সময় চেয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা উঠলেই লাইসেন্সিং, তারপর খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ। দলবদলের সময় শেষ হবে ৩ সেপ্টেম্বর। তাই ১৯ আগস্টের নিবন্ধন সময়সীমা নিয়ে বেশ কয়েকটি ক্লাবের আপত্তি। তাদের দাবি, দলবদলের শেষদিন পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হোক। ফিফার তালিকায় বাংলাদেশের আরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স, শেখ জামাল ধানমন্ডি ও সকার ক্লাব ফেনীর। নিষেধাজ্ঞার কারণে ফকিরেরপুল অনুমতি পেলেও দলবদলে নামতে পারছে না।


























