নিউইয়র্ক ০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের বাজারে অস্থিরতা, মাছের দামও চড়া

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫১:৫৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে মাংস ও মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে ডিমের বাজার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। একই সঙ্গে মাছের বাজারেও উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্ষার কারণে কিছু শাকসবজির সরবরাহ বাড়লেও বেশ কয়েকটি সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে এক ডজন সাদা ব্রয়লার ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। ব্রাউন বা লাল ডিমের দাম ডজনে ১৩০ টাকা। অথচ গত সপ্তাহেও একই ডিমের দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।

ডিম বিক্রেতা রোমান বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম রয়েছে প্রায় ৩৩০ টাকা।

এদিকে স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। আকার ও মানভেদে চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কৈ মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইম মাছের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ প্রায় ৭০০ টাকা কেজি।

ইলিশের বাজারে দাম এখনো চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। অন্যদিকে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ এবং মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

চাষের শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। মাঝারি রুই মিলছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

রায়েরবাজারের মাছ বিক্রেতা মনতাজ উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস ধরে মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। তার মতে, চিংড়ি, বড় রুই, রূপচাঁদা ও শোলের মতো মাছের দাম সব সময়ই কিছুটা বেশি থাকে। তবে ইলিশের বর্তমান মূল্য অস্বাভাবিক। গত কয়েক বছরে এর দাম দ্রুত বেড়েছে, কারণ বাজারে সরবরাহের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি।

ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, শোল মাছ ৭০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। তার অভিযোগ, প্রায় সব ধরনের মাছই এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এদিকে বর্ষাকালে বাজারে শাকের সরবরাহ বাড়লেও বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। লালশাকের আঁটি ১০ টাকা এবং পুঁইশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকায় উঠেছে। একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকায়।

বেগুনের কেজি বাজারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়ার দাম আগের মতোই রয়েছে। করলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরলতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও বাজারভেদে ৮০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল

মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল ইরান

১১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ডিমের বাজারে অস্থিরতা, মাছের দামও চড়া

আপডেটের সময় : ০৭:৫১:৫৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর বাজারে মাংস ও মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে ডিমের বাজার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। একই সঙ্গে মাছের বাজারেও উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্ষার কারণে কিছু শাকসবজির সরবরাহ বাড়লেও বেশ কয়েকটি সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে এক ডজন সাদা ব্রয়লার ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। ব্রাউন বা লাল ডিমের দাম ডজনে ১৩০ টাকা। অথচ গত সপ্তাহেও একই ডিমের দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।

ডিম বিক্রেতা রোমান বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতি ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম রয়েছে প্রায় ৩৩০ টাকা।

এদিকে স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। আকার ও মানভেদে চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কৈ মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইম মাছের দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ প্রায় ৭০০ টাকা কেজি।

ইলিশের বাজারে দাম এখনো চড়া। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। অন্যদিকে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ এবং মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

চাষের শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। মাঝারি রুই মিলছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

রায়েরবাজারের মাছ বিক্রেতা মনতাজ উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস ধরে মাছের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। তার মতে, চিংড়ি, বড় রুই, রূপচাঁদা ও শোলের মতো মাছের দাম সব সময়ই কিছুটা বেশি থাকে। তবে ইলিশের বর্তমান মূল্য অস্বাভাবিক। গত কয়েক বছরে এর দাম দ্রুত বেড়েছে, কারণ বাজারে সরবরাহের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি।

ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, শোল মাছ ৭০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন। তার অভিযোগ, প্রায় সব ধরনের মাছই এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এদিকে বর্ষাকালে বাজারে শাকের সরবরাহ বাড়লেও বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। লালশাকের আঁটি ১০ টাকা এবং পুঁইশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকায় উঠেছে। একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকায়।

বেগুনের কেজি বাজারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়ার দাম আগের মতোই রয়েছে। করলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরলতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও বাজারভেদে ৮০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

Share this news as a Photo Card