নিউইয়র্ক ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ দিনে দুবার মাঠেই ঢলে পড়লেন জামাল, শনাক্ত হয়েছে খিঁচুনি রোগ

  • আপডেটের সময় : ০৬:৪৫:০২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চার দিনের ব্যবধানে দুই ম্যাচে মাঠে ঢলে পড়ার পর বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির তারকা জামাল মুসিয়ালার শারীরিক সমস্যার কারণ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের সাময়িক ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ শনাক্ত হয়েছে, যা এক ধরনের মৃগি রোগ বা খিঁচুনি।

তবে এ সমস্যার কারণে তার স্বাস্থ্যে বাড়তি কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন মুসিয়ালা নিজেই।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হাইডেনহাইমের বিপক্ষে বায়ার্নের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পড়ে যান মুসিয়ালা। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় দুই দলের খেলোয়াড়রা তাকে ঘিরে দাঁড়ান। পরে মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থদের সহায়তা নিতে হয় তাকে।

এর মাত্র তিন দিন আগে লাইপজিগের বিপক্ষেও একই ধরনের ঘটনায় মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে অবশ্য নিজেই হেঁটে মাঠের বাইরে যান মুসিয়ালা। তবে তখন তাকে কিছুটা হতভম্ব দেখাচ্ছিল।

জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মুসিয়ালার স্নায়বিক সমস্যার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

মুসিয়ালা বলেন, স্নায়বিক সমস্যার কারণেই লাইপজিগ ও হাইডেনহাইমের ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে তার স্বাস্থ্যের অন্য কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেই। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চান বলেও জানান তিনি।

স্বাভাবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি নিজের আবেগ ধরে রেখেই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চান মুসিয়ালা। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য যা সবচেয়ে সহায়ক, সেটিই অনুসরণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, মুসিয়ালার মাঠে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ফুটবলার, ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন।

তবে বায়ার্ন মিউনিখ তাদের প্রতিবেদনে মুসিয়ালার খিঁচুনির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেনি। ক্লাবটি জানিয়েছে, মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আঘাতজনিত কারণে মুসিয়ালাকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগে লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচের পর বায়ার্ন জানিয়েছিল, গরম কিংবা মাথা ঘোরার কারণে তার সাময়িক শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।

পরপর দুই ম্যাচে মাঠে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মুসিয়ালার সাম্প্রতিক শারীরিক সমস্যার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে গুরুতর পায়ের চোট পেয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায় এবং একাধিক লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা। এরপর জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পান তিনি। তবে পুরোনো চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে।

এবার নতুন করে স্নায়বিক সমস্যার শনাক্ত হওয়ায় মুসিয়ালার মাঠে ফেরার পরবর্তী পথও থাকছে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে। তবে আপাতত নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেই সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যয় জানিয়েছেন বায়ার্নের এই তারকা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দীর্ঘ ৯ মাস পর কারাগারে পরিবারের দেখা পেলেন ইমরান খান

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৪ দিনে দুবার মাঠেই ঢলে পড়লেন জামাল, শনাক্ত হয়েছে খিঁচুনি রোগ

আপডেটের সময় : ০৬:৪৫:০২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

চার দিনের ব্যবধানে দুই ম্যাচে মাঠে ঢলে পড়ার পর বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির তারকা জামাল মুসিয়ালার শারীরিক সমস্যার কারণ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের সাময়িক ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ শনাক্ত হয়েছে, যা এক ধরনের মৃগি রোগ বা খিঁচুনি।

তবে এ সমস্যার কারণে তার স্বাস্থ্যে বাড়তি কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন মুসিয়ালা নিজেই।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হাইডেনহাইমের বিপক্ষে বায়ার্নের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পড়ে যান মুসিয়ালা। প্রাথমিক চিকিৎসার সময় দুই দলের খেলোয়াড়রা তাকে ঘিরে দাঁড়ান। পরে মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থদের সহায়তা নিতে হয় তাকে।

এর মাত্র তিন দিন আগে লাইপজিগের বিপক্ষেও একই ধরনের ঘটনায় মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে অবশ্য নিজেই হেঁটে মাঠের বাইরে যান মুসিয়ালা। তবে তখন তাকে কিছুটা হতভম্ব দেখাচ্ছিল।

জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মুসিয়ালার স্নায়বিক সমস্যার বিষয়টি শনাক্ত হয়। পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

মুসিয়ালা বলেন, স্নায়বিক সমস্যার কারণেই লাইপজিগ ও হাইডেনহাইমের ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে তার স্বাস্থ্যের অন্য কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেই। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চান বলেও জানান তিনি।

স্বাভাবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি ফুটবলের প্রতি নিজের আবেগ ধরে রেখেই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চান মুসিয়ালা। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য যা সবচেয়ে সহায়ক, সেটিই অনুসরণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, মুসিয়ালার মাঠে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ফুটবলার, ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন।

তবে বায়ার্ন মিউনিখ তাদের প্রতিবেদনে মুসিয়ালার খিঁচুনির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেনি। ক্লাবটি জানিয়েছে, মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আঘাতজনিত কারণে মুসিয়ালাকে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগে লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচের পর বায়ার্ন জানিয়েছিল, গরম কিংবা মাথা ঘোরার কারণে তার সাময়িক শারীরিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।

পরপর দুই ম্যাচে মাঠে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মুসিয়ালার সাম্প্রতিক শারীরিক সমস্যার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের বিপক্ষে গুরুতর পায়ের চোট পেয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় তার ফিবুলা হাড় ভেঙে যায় এবং একাধিক লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে জানুয়ারিতে মাঠে ফেরেন মুসিয়ালা। এরপর জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও জায়গা পান তিনি। তবে পুরোনো চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে।

এবার নতুন করে স্নায়বিক সমস্যার শনাক্ত হওয়ায় মুসিয়ালার মাঠে ফেরার পরবর্তী পথও থাকছে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে। তবে আপাতত নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেই সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যয় জানিয়েছেন বায়ার্নের এই তারকা।

Share this news as a Photo Card