নিউইয়র্ক ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলানিয়ার অনুপস্থিতি, ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে গুঞ্জন

  • আপডেটের সময় : ০৭:০৮:৪৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে বেশ কিছুদিন ধরে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিও ছিল না। এ নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত দেখা যাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

গত ২৮ জুলাই রিপাবলিকান নেতা ও মার্কিন সিনেটর প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না মেলানিয়া। এর চার দিন আগে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারেও তাকে দেখা যায়নি। ২২ জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে নিহত চার মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানেও ট্রাম্পের পাশে ছিলেন না ফার্স্ট লেডি।

এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মেলানিয়াকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় ১৯ জুলাই। সেদিন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

এর আগে ১৪ জুন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০ অনুষ্ঠানে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ দলকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গিয়েছিল।

নিউজউইকের ছবিভিত্তিক বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মেলানিয়াকে মোট ৩৪টি অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে। অন্যদিকে দ্য ডেইলি বিস্টের হিসাবে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩৮ দিন তিনি প্রকাশ্যে এসেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ছয় দিন পরপর একবার তাকে জনসমক্ষে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় এবার ফার্স্ট লেডির প্রকাশ্য উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। মেলানিয়ার এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার ভাষ্য, তিনি জনসমক্ষে উপস্থিতির চেয়ে কাজের ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন।

বর্তমানে মেলানিয়া তার বেশির ভাগ সময় ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কে কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন। এর আগেও দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন মেলানিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেও প্রায় এক মাস তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

তবে মেলানিয়ার অনুপস্থিতির সময় ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে। এ কারণে তাঁকে ঘিরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের মতে, ট্রাম্প হার্পকে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখেন। প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রেও তার ওপর ট্রাম্পের গভীর আস্থা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

৩৫ বছর বয়সী হার্প ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় সহায়তা করেন। সাম্প্রতিক সময়েও প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন সফর ও কর্মসূচিতে তাকে কাছাকাছি দেখা গেছে। ১১ ও ১৬ আগস্ট তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে মেরিন ওয়ানে ভ্রমণ করেন। ২২ জুলাই নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ গ্রহণের অনুষ্ঠানেও তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন। মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরেও তার সফরসঙ্গী ছিলেন হার্প। ওই সফরে মেলানিয়া অংশ নেননি।

গত জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যখন গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে আঙ্কারা ছাড়েন, তখন তার সঙ্গে থাকা ছোট দলের সদস্যদের মধ্যেও ছিলেন হার্প। ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প উড়োজাহাজ পরিবর্তন করছেন, এ তথ্য তখন এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা অধিকাংশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকের জানা ছিল না।

ট্রাম্পের প্রতি হার্পের ব্যক্তিগত আনুগত্য নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন নোট লিখে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জায়গায় রেখে দিতেন। এমন একটি নোটে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল, আপনিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্পের এক ভাই অবশ্য তাদের সম্পর্ককে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার সঙ্গে হার্পের বর্তমানে যোগাযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হার্পকে ঘিরে যেসব আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প তাঁর কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে মাত্রার আনুগত্য পেয়েছেন, তা নজিরবিহীন। হার্পকে হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত প্রিয় ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফলে মেলানিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ট্রাম্পের পাশে হার্পের ঘন ঘন উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চললেও, এ দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। মেলানিয়ার পক্ষ থেকেও তার অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গভীর রাতে কলকাতার সেই হোটেলে যেভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মেলানিয়ার অনুপস্থিতি, ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে ঘিরে গুঞ্জন

আপডেটের সময় : ০৭:০৮:৪৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে বেশ কিছুদিন ধরে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিও ছিল না। এ নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত দেখা যাওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

গত ২৮ জুলাই রিপাবলিকান নেতা ও মার্কিন সিনেটর প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না মেলানিয়া। এর চার দিন আগে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারেও তাকে দেখা যায়নি। ২২ জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে নিহত চার মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানেও ট্রাম্পের পাশে ছিলেন না ফার্স্ট লেডি।

এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মেলানিয়াকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় ১৯ জুলাই। সেদিন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখতে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

এর আগে ১৪ জুন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০ অনুষ্ঠানে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ দলকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গিয়েছিল।

নিউজউইকের ছবিভিত্তিক বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মেলানিয়াকে মোট ৩৪টি অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে। অন্যদিকে দ্য ডেইলি বিস্টের হিসাবে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩৮ দিন তিনি প্রকাশ্যে এসেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ছয় দিন পরপর একবার তাকে জনসমক্ষে দেখা গেছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় এবার ফার্স্ট লেডির প্রকাশ্য উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। মেলানিয়ার এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার ভাষ্য, তিনি জনসমক্ষে উপস্থিতির চেয়ে কাজের ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন।

বর্তমানে মেলানিয়া তার বেশির ভাগ সময় ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কে কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন। এর আগেও দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন মেলানিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেও প্রায় এক মাস তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

তবে মেলানিয়ার অনুপস্থিতির সময় ট্রাম্পের পাশে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পকে। এ কারণে তাঁকে ঘিরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের মতে, ট্রাম্প হার্পকে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখেন। প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রেও তার ওপর ট্রাম্পের গভীর আস্থা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

৩৫ বছর বয়সী হার্প ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় সহায়তা করেন। সাম্প্রতিক সময়েও প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন সফর ও কর্মসূচিতে তাকে কাছাকাছি দেখা গেছে। ১১ ও ১৬ আগস্ট তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে মেরিন ওয়ানে ভ্রমণ করেন। ২২ জুলাই নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ গ্রহণের অনুষ্ঠানেও তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন। মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরেও তার সফরসঙ্গী ছিলেন হার্প। ওই সফরে মেলানিয়া অংশ নেননি।

গত জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যখন গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে আঙ্কারা ছাড়েন, তখন তার সঙ্গে থাকা ছোট দলের সদস্যদের মধ্যেও ছিলেন হার্প। ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প উড়োজাহাজ পরিবর্তন করছেন, এ তথ্য তখন এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকা অধিকাংশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকের জানা ছিল না।

ট্রাম্পের প্রতি হার্পের ব্যক্তিগত আনুগত্য নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন নোট লিখে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জায়গায় রেখে দিতেন। এমন একটি নোটে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল, আপনিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্পের এক ভাই অবশ্য তাদের সম্পর্ককে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার সঙ্গে হার্পের বর্তমানে যোগাযোগ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হার্পকে ঘিরে যেসব আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প তাঁর কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে মাত্রার আনুগত্য পেয়েছেন, তা নজিরবিহীন। হার্পকে হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত প্রিয় ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফলে মেলানিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ট্রাম্পের পাশে হার্পের ঘন ঘন উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চললেও, এ দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। মেলানিয়ার পক্ষ থেকেও তার অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

Share this news as a Photo Card