নিউইয়র্ক ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৩ হাজার ৮৮৯, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • আপডেটের সময় : ০৯:০৭:৪৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ জনে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। ধ্বংসস্তূপের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এখন দেশটিতে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ—জনস্বাস্থ্য সংকট। অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আমেরিকা অঞ্চলের শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএইচও)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে পিএইচওর পরিচালক ও ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক জারবাস বারবোসা বলেন, ভূমিকম্পের তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির বাইরে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত মানুষের অবস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকট, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গত ২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গতদের জন্য সরকার ৮০টির বেশি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৯০৭ জনে পৌঁছেছে।

বারবোসা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাসকারী মানুষ বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্ভাব্য রোগের বিস্তার ঠেকাতে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে পিএইচও। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা যেকোনো দেশের জন্যই কঠিন। তিনি জানান, আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ।

ফ্লেচারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৪০ হাজার দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছেছে। পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিশেষজ্ঞ দলও মাঠে নামানো হচ্ছে।

পিএইচওর স্বাস্থ্য জরুরি বিভাগের পরিচালক সিরো উগার্তে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল ছিল। সেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে আরও চাপে ফেলেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল

মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল ইরান

১১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ৩ হাজার ৮৮৯, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেটের সময় : ০৯:০৭:৪৫ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ জনে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। ধ্বংসস্তূপের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এখন দেশটিতে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ—জনস্বাস্থ্য সংকট। অতিরিক্ত ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আমেরিকা অঞ্চলের শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএইচও)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে পিএইচওর পরিচালক ও ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক জারবাস বারবোসা বলেন, ভূমিকম্পের তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির বাইরে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত মানুষের অবস্থান, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকট, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গত ২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্গতদের জন্য সরকার ৮০টির বেশি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৯০৭ জনে পৌঁছেছে।

বারবোসা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বসবাসকারী মানুষ বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্ভাব্য রোগের বিস্তার ঠেকাতে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে পিএইচও। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা যেকোনো দেশের জন্যই কঠিন। তিনি জানান, আগামী ছয় মাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ।

ফ্লেচারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মানবিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৪০ হাজার দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছেছে। পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিশেষজ্ঞ দলও মাঠে নামানো হচ্ছে।

পিএইচওর স্বাস্থ্য জরুরি বিভাগের পরিচালক সিরো উগার্তে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল ছিল। সেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে আরও চাপে ফেলেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card