নিউইয়র্ক ০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা কিউআরে বাড়ছে ব্যবহার, লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল

  • আপডেটের সময় : ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশে একক কিউআর কোড ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করার পর এ মাধ্যমে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। জুলাইয়ের শুরুতে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণও প্রায় তিনগুণ বেড়ে দৈনিক গড়ে ১১০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনে দৈনিক গড়ে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার কেনাকাটা করা হতো। গত সপ্তাহে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। 

গত ১ জুলাই থেকে দেশে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে একক কিউআর হিসেবে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপর থেকেই এ মাধ্যমে লেনদেন ও মার্চেন্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

একই সঙ্গে বেড়েছে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। জুলাইয়ের শুরুতে এ ব্যবস্থার আওতায় মার্চেন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে। বাংলা কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

এখন পর্যন্ত বাংলা কিউআর মূলত দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক লেনদেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তরেও এই পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকবে। ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে নিজের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দ্রুত টাকা পাঠানো যাবে।

এর ফলে ব্যাংক থেকে ব্যাংক, এমএফএস থেকে এমএফএস এবং ব্যাংক থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে সহজে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলা কিউআরভিত্তিক এ অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (পিএসও) এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ থাকবে।

আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন আরও বাড়াতে বাংলা কিউআরকে সহজ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য ভিসা বুলেটিন প্রকাশ

৫.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান, বহু হতাহতের আশঙ্কা 

২৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাংলা কিউআরে বাড়ছে ব্যবহার, লেনদেন ১১০ কোটি টাকা ছাড়াল

আপডেটের সময় : ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

দেশে একক কিউআর কোড ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করার পর এ মাধ্যমে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। জুলাইয়ের শুরুতে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেন হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণও প্রায় তিনগুণ বেড়ে দৈনিক গড়ে ১১০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনে দৈনিক গড়ে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার কেনাকাটা করা হতো। গত সপ্তাহে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। 

গত ১ জুলাই থেকে দেশে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে একক কিউআর হিসেবে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপর থেকেই এ মাধ্যমে লেনদেন ও মার্চেন্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

একই সঙ্গে বেড়েছে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। জুলাইয়ের শুরুতে এ ব্যবস্থার আওতায় মার্চেন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে। বাংলা কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

এখন পর্যন্ত বাংলা কিউআর মূলত দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক লেনদেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থ স্থানান্তরেও এই পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকবে। ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে নিজের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দ্রুত টাকা পাঠানো যাবে।

এর ফলে ব্যাংক থেকে ব্যাংক, এমএফএস থেকে এমএফএস এবং ব্যাংক থেকে এমএফএস অ্যাকাউন্টে সহজে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলা কিউআরভিত্তিক এ অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (পিএসও) এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ থাকবে।

আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন আরও বাড়াতে বাংলা কিউআরকে সহজ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card