নিউইয়র্ক ০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্ককে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৬:১৪:৪২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিদায়ী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহাসচিবের বিদায়ী সাক্ষাতের তথ্য জানিয়েছে সার্ক সচিবালয়।

সাক্ষাৎকালে মহাসচিব সার্ক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও অবিচল অঙ্গীকারের জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কত্ব ও উদ্যোগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রধান আঞ্চলিক মঞ্চ হিসেবে সার্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন স্বার্থ ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা, সংলাপ ও কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমেই আঞ্চলিক সহযোগিতার চেতনাকে সজীব রাখা সম্ভব।

সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক একটি আঞ্চলিক সংস্থার রূপকল্প উপস্থাপন করেন। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং বাস্তব সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন, যাতে এসব উদ্যোগ সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজের দায়িত্বকালীন সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য মহাসচিবের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। ধারাবাহিক কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তার নিষ্ঠার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন মহাসচিব। সার্ক, এর বিশেষায়িত সংস্থা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় সার্কের অভিন্ন লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব, জনকেন্দ্রিক এবং ফলপ্রসূ সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক সংযোগ, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিদায়ী সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে সার্কের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার। তিনি সার্কের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটির লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

হ্রদে সাঁতার কাটার পর মগজখেকো অ্যামিবায় যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু

ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের

২৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সার্ককে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৬:১৪:৪২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিদায়ী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহাসচিবের বিদায়ী সাক্ষাতের তথ্য জানিয়েছে সার্ক সচিবালয়।

সাক্ষাৎকালে মহাসচিব সার্ক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও অবিচল অঙ্গীকারের জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে সার্কের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কত্ব ও উদ্যোগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের প্রধান আঞ্চলিক মঞ্চ হিসেবে সার্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন স্বার্থ ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। সার্ক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিয়মিত সম্পৃক্ততা, সংলাপ ও কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমেই আঞ্চলিক সহযোগিতার চেতনাকে সজীব রাখা সম্ভব।

সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনকেন্দ্রিক একটি আঞ্চলিক সংস্থার রূপকল্প উপস্থাপন করেন। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং বাস্তব সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন, যাতে এসব উদ্যোগ সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজের দায়িত্বকালীন সার্কের কার্যক্রম সচল রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য মহাসচিবের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। ধারাবাহিক কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে আঞ্চলিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তার নিষ্ঠার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থার আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন মহাসচিব। সার্ক, এর বিশেষায়িত সংস্থা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় সার্কের অভিন্ন লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তব, জনকেন্দ্রিক এবং ফলপ্রসূ সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় অর্থনৈতিক একীকরণ, আঞ্চলিক সংযোগ, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিদায়ী সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে সার্কের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার। তিনি সার্কের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটির লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Share this news as a Photo Card