নিউইয়র্ক ০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দী ৩২ পরিবার

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩০:৪৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ৩২টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জাজিরপুল খাল দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, কেন্দুয়াই, রহিমপুর, রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের বিপরীতে থাকা আমদানি-রপ্তানিকারকদের অফিসেও পানি প্রবেশ করেছে। পাশের কয়েকটি হোটেল ও চায়ের দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আবু হানিফ বলেন, ‘ভারত থেকে আসা পানির আমাদের খুব ক্ষতি করেছে। পুকুর, জমি তলিয়ে গেছে। আমাদের এদিকে কোনো বৃষ্টি নেই। হঠাৎ উজান থেকে পানি নেমে এসেছে।’

কেন্দুয়াই গ্রামের মনির মিয়া বলেন, ‘চার কানি জমি লাগিয়েছিলাম। ভারত থেকে হঠাৎ পানি এসে বাড়িঘর ও জমি তলিয়ে গেছে।’

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, গত শনিবার থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। রোববার পানি আরও বেড়েছে। এতে তার ধানখেত তলিয়ে গেছে। জমিতে ধান লাগানোর পর শ্রমিকদের পুরো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহের মিয়া বলেন, তার ওয়ার্ডের রহিমপুর, কেন্দুয়াই ও বঙ্গেরচর গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জাজি নদী ও খালগুলো পরিষ্কার করা হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কম বলে জানান তিনি।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ৩২টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ সেখানে আশ্রয় নেয়নি। প্রয়োজনের জন্য ত্রাণও প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বিতরণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

হ্রদে সাঁতার কাটার পর মগজখেকো অ্যামিবায় যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু

ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের

২৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দী ৩২ পরিবার

আপডেটের সময় : ০৬:৩০:৪৪ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং ৩২টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জাজিরপুল খাল দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, কেন্দুয়াই, রহিমপুর, রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকটি বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের বিপরীতে থাকা আমদানি-রপ্তানিকারকদের অফিসেও পানি প্রবেশ করেছে। পাশের কয়েকটি হোটেল ও চায়ের দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের আবু হানিফ বলেন, ‘ভারত থেকে আসা পানির আমাদের খুব ক্ষতি করেছে। পুকুর, জমি তলিয়ে গেছে। আমাদের এদিকে কোনো বৃষ্টি নেই। হঠাৎ উজান থেকে পানি নেমে এসেছে।’

কেন্দুয়াই গ্রামের মনির মিয়া বলেন, ‘চার কানি জমি লাগিয়েছিলাম। ভারত থেকে হঠাৎ পানি এসে বাড়িঘর ও জমি তলিয়ে গেছে।’

রাজেন্দ্রপুর গ্রামের জালাল মিয়া বলেন, গত শনিবার থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। রোববার পানি আরও বেড়েছে। এতে তার ধানখেত তলিয়ে গেছে। জমিতে ধান লাগানোর পর শ্রমিকদের পুরো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহের মিয়া বলেন, তার ওয়ার্ডের রহিমপুর, কেন্দুয়াই ও বঙ্গেরচর গ্রামের অনেক বাড়িঘর ও জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জাজি নদী ও খালগুলো পরিষ্কার করা হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, আখাউড়া পৌরসভা, মোগড়া ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কম বলে জানান তিনি।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ৩২টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী স্কুলগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ সেখানে আশ্রয় নেয়নি। প্রয়োজনের জন্য ত্রাণও প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বিতরণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card