নিউইয়র্ক ০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের

  • আপডেটের সময় : ০৭:০৯:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর আগামী দিনে এমন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে যা তাদের জন্য ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে গণ্য হবে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক নিবন্ধে এই হুমকি দেওয়ার পর এর কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, তেহরানের অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি পথ কেটে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনা ও পরিবহনে সহায়তা করছে অথবা ব্যাংক ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ বাণিজ্যে চোখ বুজে আছে, তাদেরও মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানের প্রায় শতভাগ সামরিক সক্ষমতা ও পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য হুমকির কড়া জবাব দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং জাতিসংঘের প্রতিটি সার্বভৌম দেশের ওপর নিজস্ব ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার মতো চেষ্টা।

একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই এক বার্তায় কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোটা তেলও বিদেশে রপ্তানি হতে দেবে না ইরান। মার্কিনদের এই অর্থনৈতিক অভিযানে যে দেশই অংশ নেবে বা সমর্থন জোগাবে, ইরান সেটিকে সরাসরি নিজেদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে ধরে নেবে।

উল্লেখ্য, টানা প্রায় ছয় মাস ধরে চলতে থাকা এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের শান্তির পথ তৈরি হয়নি। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদনহীন যেকোনো ট্যাংকার ভেড়ানোর ওপর তেহরানের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে তেল পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। 

যদিও বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উভয় পক্ষকেই আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্বীকার করেছেন যে সামরিক শক্তির পাশাপাশি এই অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বাণিজ্যিক প্রবাহ অব্যাহত থাকা আবশ্যক।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

হ্রদে সাঁতার কাটার পর মগজখেকো অ্যামিবায় যুক্তরাষ্ট্রে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু

ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের

২৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানের ওপর চূড়ান্ত সংঘাতের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ তেহরানের

আপডেটের সময় : ০৭:০৯:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর আগামী দিনে এমন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে যা তাদের জন্য ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে গণ্য হবে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক নিবন্ধে এই হুমকি দেওয়ার পর এর কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, তেহরানের অর্থনৈতিক জীবনের প্রতিটি পথ কেটে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনা ও পরিবহনে সহায়তা করছে অথবা ব্যাংক ব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ বাণিজ্যে চোখ বুজে আছে, তাদেরও মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানের প্রায় শতভাগ সামরিক সক্ষমতা ও পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য হুমকির কড়া জবাব দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং জাতিসংঘের প্রতিটি সার্বভৌম দেশের ওপর নিজস্ব ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার মতো চেষ্টা।

একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই এক বার্তায় কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোটা তেলও বিদেশে রপ্তানি হতে দেবে না ইরান। মার্কিনদের এই অর্থনৈতিক অভিযানে যে দেশই অংশ নেবে বা সমর্থন জোগাবে, ইরান সেটিকে সরাসরি নিজেদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে ধরে নেবে।

উল্লেখ্য, টানা প্রায় ছয় মাস ধরে চলতে থাকা এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের শান্তির পথ তৈরি হয়নি। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদনহীন যেকোনো ট্যাংকার ভেড়ানোর ওপর তেহরানের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে তেল পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। 

যদিও বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উভয় পক্ষকেই আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্বীকার করেছেন যে সামরিক শক্তির পাশাপাশি এই অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বাণিজ্যিক প্রবাহ অব্যাহত থাকা আবশ্যক।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card