নিউইয়র্ক ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমি নিউইয়র্কে আসব’, মামদানিকে পাল্টা জবাব নেতানিয়াহুর

  • আপডেটের সময় : ০৭:০৫:৪৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, মামদানি শহরে বিভাজন, ঘৃণা ও ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) ফক্স নিউজের সানডে মর্নিং ফিউচার্স অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘মামদানির উদ্দেশে আমার জবাব হলো, আমি নিউইয়র্কে আসব। জাতিসংঘের মঞ্চে সত্য তুলে ধরব এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে কথা বলব।’ 

এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিউইয়র্কে স্বাগত নন। এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, মামদানির স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ৭ অক্টোবরের হামলা উদ্‌যাপন করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি বলেন, ওই হামলা ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, হামাসের ঘোষিত লক্ষ্যই ইসরায়েল ও ইহুদিদের ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, হামাস বেসামরিক মানুষের মধ্যে অবস্থান নিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে যেতে বাধা দেয়, ফলে প্রাণহানির দায়ও তাদের।

সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, একজন মেয়রের দায়িত্ব হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু মামদানি এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্যে নিউইয়র্কের ইহুদি বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

তিনি নিউইয়র্কের একটি সিনাগগের বাইরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহুর দাবি, তার বিরুদ্ধে মামদানির বক্তব্যের পরদিনই ওই হামলা ঘটে। যদিও এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের প্রমাণ তিনি দেননি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে তিনি প্রথমে এক এশীয় ব্যক্তিকে এবং পরে একটি সিনাগগ থেকে বের হওয়া এক ইহুদি ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্ক সিটি হলের রাজনৈতিক বিরোধিতা তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তিনি জানান, শরতে নিউইয়র্কে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জোটের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কোনো অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীরই নিউইয়র্কে অবাধে চলাফেরা করা উচিত নয়। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে তার প্রশাসন আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে: ইরান

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

‘আমি নিউইয়র্কে আসব’, মামদানিকে পাল্টা জবাব নেতানিয়াহুর

আপডেটের সময় : ০৭:০৫:৪৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, মামদানি শহরে বিভাজন, ঘৃণা ও ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) ফক্স নিউজের সানডে মর্নিং ফিউচার্স অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘মামদানির উদ্দেশে আমার জবাব হলো, আমি নিউইয়র্কে আসব। জাতিসংঘের মঞ্চে সত্য তুলে ধরব এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পক্ষে কথা বলব।’ 

এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিউইয়র্কে স্বাগত নন। এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন।

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, মামদানির স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা ৭ অক্টোবরের হামলা উদ্‌যাপন করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি বলেন, ওই হামলা ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উঠলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, হামাসের ঘোষিত লক্ষ্যই ইসরায়েল ও ইহুদিদের ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, হামাস বেসামরিক মানুষের মধ্যে অবস্থান নিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে যেতে বাধা দেয়, ফলে প্রাণহানির দায়ও তাদের।

সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, একজন মেয়রের দায়িত্ব হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু মামদানি এক সম্প্রদায়কে আরেক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্যে নিউইয়র্কের ইহুদি বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

তিনি নিউইয়র্কের একটি সিনাগগের বাইরে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহুর দাবি, তার বিরুদ্ধে মামদানির বক্তব্যের পরদিনই ওই হামলা ঘটে। যদিও এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের প্রমাণ তিনি দেননি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী রাউল মোরালেসের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডে তিনি প্রথমে এক এশীয় ব্যক্তিকে এবং পরে একটি সিনাগগ থেকে বের হওয়া এক ইহুদি ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্ক সিটি হলের রাজনৈতিক বিরোধিতা তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তিনি জানান, শরতে নিউইয়র্কে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জোটের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কোনো অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীরই নিউইয়র্কে অবাধে চলাফেরা করা উচিত নয়। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে তার প্রশাসন আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছে।

Share this news as a Photo Card