নিউইয়র্ক ০২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ ঢাকার কেরাণীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা এক বার্তায় জানিয়েছেসংস্থাটি।

গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয় তাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাফিজুর রহমান আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে ফের ধরা হয়েছে।

একইসঙ্গে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত রোববার হাই কোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তারপরই রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে গেলে বৃহস্পতিবার আদালত আসামির জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তিনি যদি আত্মসমর্পণ না করেন তবে তাকে গ্রেপ্তারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই নির্ধারিত সময় পেরোলেও আসামি হাফিজুর আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা বাদে তাকে গ্রেপ্তার করল পিবিআই।

দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

পরদিন তাকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংস্থাটি সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পরদিন তনুর বাবা (ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইতালির বিমানবন্দরে দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা আটকা ফ্লাইট, ওষুধ লাগেজে থাকায় অসুস্থ অনেক যাত্রী

ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত

০৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তনু হত্যা মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান

আপডেটের সময় : ০৪:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ ঢাকার কেরাণীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা এক বার্তায় জানিয়েছেসংস্থাটি।

গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয় তাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাফিজুর রহমান আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে ফের ধরা হয়েছে।

একইসঙ্গে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত রোববার হাই কোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তারপরই রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে গেলে বৃহস্পতিবার আদালত আসামির জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তিনি যদি আত্মসমর্পণ না করেন তবে তাকে গ্রেপ্তারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই নির্ধারিত সময় পেরোলেও আসামি হাফিজুর আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা বাদে তাকে গ্রেপ্তার করল পিবিআই।

দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

পরদিন তাকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংস্থাটি সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পরদিন তনুর বাবা (ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

Share this news as a Photo Card