নিউইয়র্ক ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে জুলাই ঘিরে বিতর্ক, জুলাই-যোদ্ধা বহিষ্কার

  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৪:১৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে ‘ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে’ এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানোর পর নূর হোসেন নামের এক প্রবাসী ‘জুলাই-যোদ্ধা’কে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট কনস্যুলেট কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ওপর তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীর পরপরই নিজেকে জুলাই-যোদ্ধা হিসেবে পরিচয়দানকারী প্রবাসী নূর হোসেন এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি কনসাল জেনারেল এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজাসহ উপস্থিত কর্তাব্যক্তিদের উদ্দেশে আঙুল উঁচিয়ে বলেন, “বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল জুলাই বিপ্লব। অথচ বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বলেছিলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের ফসল ফ্যাসিবাদের পতন। আমরা আন্দোলন করি নাই? ডকুমেন্টারিতে ইতিহাসের বিকৃতি করা হয়েছে।”

তার এই বক্তব্যের পরেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে নূর হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজন নেতার বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষীরা পরবর্তীতে তাকে আর ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। ত টানটান উত্তেজনার মধ্যেই পরে কনস্যুলেটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকে এবং যথারীতি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল হক।

উত্তেজনার একপর্যায়ে মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ ও অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “ভাইয়েরা উচ্ছৃঙ্খল হবেন না। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান।”

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, `৪০ বছর আমরা এদেশে এরশাদবিরোধী, ১/১১ বিরোধী এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে ছিলাম। কখনো এই লোকটিকে দেখিনি। সে হচ্ছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার এজেন্ট। জুলাই আন্দোলন এবং সফলতা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই বলেই মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুপ্ত আগন্তুক যেন কোনো অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা উচিত।’

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন। তিনি বলেন, `যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে আমরা সকলেই সোচ্চার ছিলাম ফ্যাসিস্ট তাড়ানোর আন্দোলনে। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার কোনোই অবকাশ থাকতে পারে না।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম দিনেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে জুলাই ঘিরে বিতর্ক, জুলাই-যোদ্ধা বহিষ্কার

আপডেটের সময় : ০৭:৫৪:১৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে ‘ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে’ এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানোর পর নূর হোসেন নামের এক প্রবাসী ‘জুলাই-যোদ্ধা’কে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। গত ৭ আগস্ট কনস্যুলেট কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ওপর তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনীর পরপরই নিজেকে জুলাই-যোদ্ধা হিসেবে পরিচয়দানকারী প্রবাসী নূর হোসেন এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি কনসাল জেনারেল এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজাসহ উপস্থিত কর্তাব্যক্তিদের উদ্দেশে আঙুল উঁচিয়ে বলেন, “বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল জুলাই বিপ্লব। অথচ বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বলেছিলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের ফসল ফ্যাসিবাদের পতন। আমরা আন্দোলন করি নাই? ডকুমেন্টারিতে ইতিহাসের বিকৃতি করা হয়েছে।”

তার এই বক্তব্যের পরেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে নূর হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজন নেতার বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কনস্যুলেটের নিরাপত্তা রক্ষীরা পরবর্তীতে তাকে আর ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। ত টানটান উত্তেজনার মধ্যেই পরে কনস্যুলেটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকে এবং যথারীতি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল হক।

উত্তেজনার একপর্যায়ে মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ ও অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, “ভাইয়েরা উচ্ছৃঙ্খল হবেন না। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান।”

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, `৪০ বছর আমরা এদেশে এরশাদবিরোধী, ১/১১ বিরোধী এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে ছিলাম। কখনো এই লোকটিকে দেখিনি। সে হচ্ছে ফ্যাসিস্ট হাসিনার এজেন্ট। জুলাই আন্দোলন এবং সফলতা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই বলেই মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুপ্ত আগন্তুক যেন কোনো অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা উচিত।’

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন। তিনি বলেন, `যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে আমরা সকলেই সোচ্চার ছিলাম ফ্যাসিস্ট তাড়ানোর আন্দোলনে। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার কোনোই অবকাশ থাকতে পারে না।’

Share this news as a Photo Card