নিউইয়র্কের ওজন পার্কের জনপ্রিয় বাঙালি রেস্তোরাঁ ‘রাফা স্পাইসি কটেজ’-এর খাবার ও কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেস্তোরাঁটির খাবার ও সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
গ্রাহকদের মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে খাবারের নিম্নমান, অতিরিক্ত দাম এবং সার্ভিসে অবহেলা। অনেকেই জানিয়েছেন, শুরুর দিকে রেস্তোরাঁটির খাবারের স্বাদ ভালো থাকলেও দিন দিন তা কমে গেছে। বিশেষ করে সকালের নাশতা বা ব্রেকফাস্ট ডিলের মান ও পরিমাণ নিয়ে ব্যাপক হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা। এছাড়া রমজানের সময় জিলিপি ও অন্যান্য খাবার নিয়ে কথা বলতে গেলে রেস্তোরাঁ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত বাজে আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। এমনকি খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও করেছেন কোনো কোনো গ্রাহক।
তবে এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে নেতিবাচক দিকটি সামনে এসেছে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের রেসপন্স বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে। গ্রাহকদের অভিযোগ, খাবারের মান নিয়ে কেউ সমালোচনা বা নেতিবাচক রিভিউ দিলে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বা তাদের সাথে জড়িতরা পেশাদারভাবে তা গ্রহণ করার বদলে উল্টো গ্রাহকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। কোনো কোনো গ্রাহকের শরীর, ওজন ও শারীরিক গঠন নিয়ে ট্রল বা বডি শমিং করা হয়েছে এবং ফেক আইডি তৈরি করে অপমানজনক পোস্ট বা কমেন্ট করার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু নিয়মিত কাস্টমার রেস্তোরাঁটির পক্ষে দাঁড়িয়ে বলছেন যে তারা নিয়মিত খেয়ে সন্তুষ্ট এবং ভুল হলে তা শুধরে নেওয়ার নজিরও রয়েছে। তবে তারাও স্বীকার করেছেন যে ব্যবসা করতে হলে ভালো মতামতের পাশাপাশি খারাপ রিভিউ বা সমালোচনা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, ডমিনোসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক ম্যানেজারসহ অনেক সচেতন প্রবাসী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে গ্রাহকদের রিভিউ দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে সেবার মান উন্নত করার পরিবর্তে গ্রাহকদের নিয়ে উপহাস করা বা অনলাইনে বুলিং করা কোনো সুস্থ ব্যবসার লক্ষণ হতে পারে না। ওজন পার্কের বাঙালি কমিউনিটিতে সুস্থ ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অপেশাদার আচরণ বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

























