ব্রিটিশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ভল্ট’ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমেদ এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভল্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের শতভাগ মালিকানাধীন ‘ভল্ট’ যুক্তরাজ্যের হসপিটালিটি খাতে পেমেন্ট সলিউশন ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা দিয়ে আসছে। গত এক দশক ধরে এর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিচালনা কাঠামো সিলেটভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ইওটেক’ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের হসপিটালিটি খাতে ডিজিটাল পেমেন্ট ও ফিনটেক সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ভল্টের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশভিত্তিক প্রযুক্তি সক্ষমতাও ব্যবহৃত হবে।
দেশে নতুন ফিনটেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরুর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খালেদ আহমেদ বলেন, ‘ভল্টের এই উদ্যোগ সিলেটের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতার প্রতিফলন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। স্থানীয় মার্চেন্টদের ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত করতে যুক্তরাজ্যের ট্রানজেকশন প্রসেসিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে ভল্ট হোল্ডিংসের কো-ফাউন্ডার ও সিপিও এবং ভল্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আসাদ জামান বলেন, ‘সিলেটের প্রকৌশলীরা এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এই ইকো-সিস্টেমের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নগদ লেনদেন থেকে সরে এসে ডেটা-চালিত ডিজিটাল অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর ফলে ব্যবসা পরিচালনায় প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।’
উল্লেখ্য, ‘ভল্ট’ একটি ব্রিটিশ ফিনটেক প্রতিষ্ঠান, যা ওপেন ব্যাংকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট পেমেন্ট সেবা প্রদান করে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন, ফলে লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হয়। ই-কমার্স, ভ্রমণ, গেমিং এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবাখাতে ভল্টের প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের আরও বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


























