নিউইয়র্ক ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের গলায় ছিল ওড়না প্যাঁচানো, হাত-পা বাঁধা ছেলের মরদেহ

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩৫:১৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ ঘর থেকে জুবায়দা খাতুন (৩২) ও তার ছয় বছরের ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘরে খাটের ওপর শিশুর হাত-পা বাঁধা এবং মায়ের গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ দুটি পাওয়া যাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত জুবায়দা খাতুন ওই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তাদের একমাত্র সন্তান জিসান স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানার ওপর মা ও ছেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। উদ্ধারকালে দেখা যায়, শিশু জিসানের হাত ও পা গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। অন্যদিকে, মা জুবায়দার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল এবং ওড়নার দুই প্রান্ত তার দুই হাতে ধরা অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশের এমন অস্বাভাবিক অবস্থান নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিহতের ছোট বোন পিনজিরা খাতুন অভিযোগ করেছেন, জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পিনজিরার দাবি, তার ভাই শিহাবের সঙ্গে জায়গা-জমি নিয়ে জাকিরের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বাঘারপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, ঘটনাস্থলের আলামত ও লাশের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেন বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই পারিবারিকভাবে কিছু বিষয় নিয়ে চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে মা ও ছেলের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে খলশী গ্রামে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম দিনেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মায়ের গলায় ছিল ওড়না প্যাঁচানো, হাত-পা বাঁধা ছেলের মরদেহ

আপডেটের সময় : ০৬:৩৫:১৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়ায় নিজ ঘর থেকে জুবায়দা খাতুন (৩২) ও তার ছয় বছরের ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘরে খাটের ওপর শিশুর হাত-পা বাঁধা এবং মায়ের গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ দুটি পাওয়া যাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত জুবায়দা খাতুন ওই গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তাদের একমাত্র সন্তান জিসান স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানার ওপর মা ও ছেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। উদ্ধারকালে দেখা যায়, শিশু জিসানের হাত ও পা গামছা দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল। অন্যদিকে, মা জুবায়দার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল এবং ওড়নার দুই প্রান্ত তার দুই হাতে ধরা অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশের এমন অস্বাভাবিক অবস্থান নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিহতের ছোট বোন পিনজিরা খাতুন অভিযোগ করেছেন, জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন। পিনজিরার দাবি, তার ভাই শিহাবের সঙ্গে জায়গা-জমি নিয়ে জাকিরের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বাঘারপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, ঘটনাস্থলের আলামত ও লাশের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেন বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই পারিবারিকভাবে কিছু বিষয় নিয়ে চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে মা ও ছেলের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে খলশী গ্রামে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Share this news as a Photo Card