নিউইয়র্ক ০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়ালে সমালোচিত, ফ্রান্সে কেন ‘রাজা’ এমবাপ্পে?

  • আপডেটের সময় : ১০:২৯:৩২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তিনটি বিশ্বকাপ, দুটি ফাইনাল, একটি শিরোপা আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ১৯ গোল। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তাকে শুধু বিশ্বকাপের খেলোয়াড় বলা হয়। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে ফরাসিদের এই ‘রাজা’। সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছেই পৌঁছে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।

তবে জাতীয় দলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিপরীতে ক্লাব ফুটবলে, বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদে, সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এমবাপ্পেকে। প্রশ্ন উঠেছে—ফ্রান্সের হয়ে তিনি যতটা প্রভাবশালী, রিয়ালে কেন ততটা নন?

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপ্পে শুধু অধিনায়কই নন, দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসাও। দলের কৌশল, আক্রমণ এবং নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস পান।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিশাল প্রত্যাশার চাপ বহন করছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ট্রফিহীন মৌসুম এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায়ের বড় অংশও তার ওপর চাপিয়েছেন সমর্থকদের একাংশ। এমনকি তাকে দল থেকে বিদায় করার দাবিতে অনলাইন পিটিশনেও সই করেছেন অনেক সমর্থক।

স্পেনভিত্তিক রয়টার্সের ক্রীড়া সাংবাদিক ফার্নান্দো কালাসের মতে, পার্থক্যটা মূলত মানসিকতায়। তার ভাষ্য, ‘পরিসংখ্যানের হিসেবে রিয়ালে এমবাপ্পের মৌসুম মোটেও খারাপ নয়। কিন্তু ফ্রান্সের হয়ে তিনি মাঠে যে আত্মত্যাগ ও নিবেদন দেখান, ক্লাবের জার্সিতে সেটি সবসময় দেখা যায় না। অনেক সমর্থকের ধারণা, তিনি কখনো কখনো দলের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেন।’

তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। গোল, অ্যাসিস্ট, গতি, সফল ড্রিবল, স্প্রিন্ট এবং প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ—প্রায় সব সূচকেই ক্লাব ও জাতীয় দলে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স কাছাকাছি।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্থক্যটা মূলত পরিবেশ, দায়িত্ববোধ এবং মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যে। ফ্রান্সের জার্সিতে এমবাপ্পে নিজেকে আরও স্বাধীনভাবে মেলে ধরতে পারেন। আর সেই আত্মবিশ্বাসই তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল দুনিয়ার ফাঁদ থেকে দূরে থাকার বার্তা কঙ্গনার

আওয়ামী লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে: পাবনায় সারজিস আলম

১০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রিয়ালে সমালোচিত, ফ্রান্সে কেন ‘রাজা’ এমবাপ্পে?

আপডেটের সময় : ১০:২৯:৩২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

তিনটি বিশ্বকাপ, দুটি ফাইনাল, একটি শিরোপা আর মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ১৯ গোল। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তাকে শুধু বিশ্বকাপের খেলোয়াড় বলা হয়। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে ফরাসিদের এই ‘রাজা’। সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছেই পৌঁছে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।

তবে জাতীয় দলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিপরীতে ক্লাব ফুটবলে, বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদে, সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এমবাপ্পেকে। প্রশ্ন উঠেছে—ফ্রান্সের হয়ে তিনি যতটা প্রভাবশালী, রিয়ালে কেন ততটা নন?

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের অধীনে এমবাপ্পে শুধু অধিনায়কই নন, দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসাও। দলের কৌশল, আক্রমণ এবং নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস পান।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিশাল প্রত্যাশার চাপ বহন করছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ট্রফিহীন মৌসুম এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায়ের বড় অংশও তার ওপর চাপিয়েছেন সমর্থকদের একাংশ। এমনকি তাকে দল থেকে বিদায় করার দাবিতে অনলাইন পিটিশনেও সই করেছেন অনেক সমর্থক।

স্পেনভিত্তিক রয়টার্সের ক্রীড়া সাংবাদিক ফার্নান্দো কালাসের মতে, পার্থক্যটা মূলত মানসিকতায়। তার ভাষ্য, ‘পরিসংখ্যানের হিসেবে রিয়ালে এমবাপ্পের মৌসুম মোটেও খারাপ নয়। কিন্তু ফ্রান্সের হয়ে তিনি মাঠে যে আত্মত্যাগ ও নিবেদন দেখান, ক্লাবের জার্সিতে সেটি সবসময় দেখা যায় না। অনেক সমর্থকের ধারণা, তিনি কখনো কখনো দলের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেন।’

তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। গোল, অ্যাসিস্ট, গতি, সফল ড্রিবল, স্প্রিন্ট এবং প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ—প্রায় সব সূচকেই ক্লাব ও জাতীয় দলে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স কাছাকাছি।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্থক্যটা মূলত পরিবেশ, দায়িত্ববোধ এবং মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যে। ফ্রান্সের জার্সিতে এমবাপ্পে নিজেকে আরও স্বাধীনভাবে মেলে ধরতে পারেন। আর সেই আত্মবিশ্বাসই তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।

Share this news as a Photo Card