নিউইয়র্ক ০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি স্কুলের বারান্দায় হয় পিটি, পঞ্চম শ্রেণিতে উপস্থিত মাত্র ৪ শিক্ষার্থী

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩৮:০৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় হয় পিটি (শারীরিক ব্যায়াম) ক্লাস। শিক্ষার্থীর সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে। ওই ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতি ঠেকেছে তলানিতে।

এমনকি সেই সংখ্যা শিক্ষকের তুলনায়ও কম। ওই শ্রেণিতে ১১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সেখানে সম্প্রতি সরেমজিনে দেখা গেছে, ক্লাস করছেন মাত্র চার শিক্ষার্থী।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের ‘নয়ন মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ দেখা গেছে এই চিত্র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিন দুদিন নয়; অনেক দিন ধরেই সরকারি এই স্কুলের এই চিত্র। নানা উদ্যোগ নিয়েও শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা যায়নি।সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের নয়ন মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নয়ন মনি উচ্চ বিদ্যালয়। দুটি বিদ্যালয়ের ভবনই পাকা। সামনের মাঠ বর্ষায় র্কদমাক্ত থাকে ৬ মাস। মাঠজুড়ে সবুজ ঘাস থাকলেও ছোট ছোট গর্ত থাকায় পানি জমে কাঁদা হয়।

বোরবার (২৬ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টার দিকে নয়ন মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি বাদে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় পিটি করানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ১০৮ জন। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল ৩য় শ্রেণিতে ১৪ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ১২ জন, ৫ম শ্রেণিতে চারজন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সংখ্যা খুবই কম। বোরবার ৫ম শ্রেণির ক্লাসে চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, শিক্ষক নিয়ে দ্বন্দ্ব ও নিয়মিতভাবে ক্লাস না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়া সমিন জানান, আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করছি কিন্তু বাড়ছে না।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোশারফ হোসেন মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ভারত: মোদি

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

২৬ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সরকারি স্কুলের বারান্দায় হয় পিটি, পঞ্চম শ্রেণিতে উপস্থিত মাত্র ৪ শিক্ষার্থী

আপডেটের সময় : ০৬:৩৮:০৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় হয় পিটি (শারীরিক ব্যায়াম) ক্লাস। শিক্ষার্থীর সবচেয়ে নাজুক অবস্থা বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে। ওই ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতি ঠেকেছে তলানিতে।

এমনকি সেই সংখ্যা শিক্ষকের তুলনায়ও কম। ওই শ্রেণিতে ১১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সেখানে সম্প্রতি সরেমজিনে দেখা গেছে, ক্লাস করছেন মাত্র চার শিক্ষার্থী।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের ‘নয়ন মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ দেখা গেছে এই চিত্র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিন দুদিন নয়; অনেক দিন ধরেই সরকারি এই স্কুলের এই চিত্র। নানা উদ্যোগ নিয়েও শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা যায়নি।সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের নয়ন মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নয়ন মনি উচ্চ বিদ্যালয়। দুটি বিদ্যালয়ের ভবনই পাকা। সামনের মাঠ বর্ষায় র্কদমাক্ত থাকে ৬ মাস। মাঠজুড়ে সবুজ ঘাস থাকলেও ছোট ছোট গর্ত থাকায় পানি জমে কাঁদা হয়।

বোরবার (২৬ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টার দিকে নয়ন মনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি বাদে ৪০ জন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় পিটি করানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ১০৮ জন। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল ৩য় শ্রেণিতে ১৪ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ১২ জন, ৫ম শ্রেণিতে চারজন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

তবে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি সংখ্যা খুবই কম। বোরবার ৫ম শ্রেণির ক্লাসে চারজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, শিক্ষক নিয়ে দ্বন্দ্ব ও নিয়মিতভাবে ক্লাস না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়া সমিন জানান, আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করার জন্য কাজ করছি কিন্তু বাড়ছে না।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোশারফ হোসেন মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card