পাকিস্তানের সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো দেশকে দীর্ঘদিন ধরে ‘অনুগত’ ও ‘বিপজ্জনক’—এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করে শাসন পরিচালনা করে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন মিডল ইস্ট মনিটরের বিশ্লেষক জুনায়েদ এস আহমেদ। তার বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধে উঠে এসেছে, দেশটির বর্তমান সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনুগত বা ‘ভালো’ নাগরিকের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং রাষ্ট্র পুরো দেশকেই প্রতিপক্ষে পরিণত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফফরাবাদসহ পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে বিদ্যুৎ বিলের বৃদ্ধি, বেকারত্ব, নিত্যপণ্যের দাম এবং নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে।
এই অস্থিতিশীলতা দমন করতে জয়েন্ট অ্যাওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে নিষিদ্ধ করা, নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা এবং সেনা মোতায়েন করে নির্বাচন পরিচালনা করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। এমনকি পরিস্থিতি কভার করায় আল জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে পাকিস্তান সবসময় বীরত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করলেও নিজেদের অংশে স্বাধিকারের দাবিকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। একইভাবে বেলুচ, পশতু বা ইমরান খানের সমর্থকদের রাজনৈতিক দাবিকেও রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা সন্ত্রাসবাদের ট্যাগ দিয়ে দমন করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সামরিক ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ বৈধতার পরিবর্তে বৈদেশিক সম্পর্কের ওপর ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে বন্দি রাখা হলেও সামরিক শক্তি দিয়ে নাগরিকদের আনুগত্য জোরপূর্বক আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর



















