নিউইয়র্ক ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার পদত্যাগের খবর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বিশ্ব গণমাধ্যমে

  • আপডেটের সময় : ০৭:২৩:২৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এনপিআরসহ প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সহিংসতার তদন্তের আহ্বান জানায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ঢল গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয়, ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস’*। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটে। একই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কোটা আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নিশ্চিত করলেন সেনাপ্রধান’। প্রতিবেদনে স্বাধীনতার পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এনপিআর শিরোনাম করে, ‘হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতন, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। সেখানে বলা হয়, কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করবে না এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীরা সরকারি বাসভবনসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ করেন।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। একই প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও তুলে ধরা হয়।

রয়টার্স শিরোনাম করে, ‘দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা জানাল সেনাবাহিনী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।

অন্যদিকে দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাজারো বিক্ষোভকারী কারফিউ অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানায়। একই সময়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, কয়েক সপ্তাহের গণবিক্ষোভের পর তার পদত্যাগ ঘটে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় আনুমানিক ৩০০ জন নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।

পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানকে কড়া হুঁশিয়ারি কিমের বোনের, নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবল ভারতীয় জাহাজ

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হাসিনার পদত্যাগের খবর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বিশ্ব গণমাধ্যমে

আপডেটের সময় : ০৭:২৩:২৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), এনপিআরসহ প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সহিংসতার তদন্তের আহ্বান জানায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ঢল গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয়, ‘শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে উচ্ছ্বাস’*। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন এবং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটে। একই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কোটা আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়।

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নিশ্চিত করলেন সেনাপ্রধান’। প্রতিবেদনে স্বাধীনতার পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এনপিআর শিরোনাম করে, ‘হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতন, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। সেখানে বলা হয়, কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করলে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করবে না এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের চাপে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীরা সরকারি বাসভবনসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ করেন।

সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। একই প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও তুলে ধরা হয়।

রয়টার্স শিরোনাম করে, ‘দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা জানাল সেনাবাহিনী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।

অন্যদিকে দ্য ডিপ্লোম্যাট লিখেছিল, ‘পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৫ বছরের শাসনের অবসান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাজারো বিক্ষোভকারী কারফিউ অমান্য করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এবং দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানায়। একই সময়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, কয়েক সপ্তাহের গণবিক্ষোভের পর তার পদত্যাগ ঘটে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় আনুমানিক ৩০০ জন নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।

পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

Share this news as a Photo Card