বঙ্গোপসাগরে ভাসমান একটি ড্যানিশ ফিশিং বোট থেকে শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে উদ্ধার করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর জেলেরা। উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি বাবা-ছেলে। তারা দীর্ঘ ৩৬ দিন ধরে সাগরে ভেসে ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) তাদের উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা এস. এইচ. চামিন্দা (৫১) এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)। বর্তমানে তারা মহেশখালীর কুতুবজোম এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন। তাদের ড্যানিশ ফিশিং বোটটিও জিয়াউর রহমানের মাছ ধরার ট্রলারের সঙ্গে বেঁধে তাজিয়াকাটা ঘাটে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলার সাগর থেকে ফেরার পথে গুলিরধার এলাকায় একটি ভাসমান ড্যানিশ ফিশিং বোট দেখতে পায়। কাছে গিয়ে জেলেরা দেখতে পান, বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে এবং এর ভেতরে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় দুজন ব্যক্তি পড়ে আছেন। তারা নিজেদের শ্রীলঙ্কার নাগরিক ও বাবা-ছেলে হিসেবে পরিচয় দেন। পরে মহেশখালীর জেলেরা তাদের উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে তুলে তীরে নিয়ে আসেন।
ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, খাবার ও পানি দেওয়ার পর তারা কথা বলতে সক্ষম হন। তাদের ভাষ্যমতে, ৩৬ দিন ধরে তারা সাগরে ভাসছিলেন। এ সময় তাদের সব রসদ শেষ হয়ে যায়। বেঁচে থাকার জন্য তারা একটি বড় মাছ ধরে কাঁচা খেয়েছেন এবং তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের মধ্যেও জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও জানান, কোস্ট গার্ড ও মহেশখালী থানা পুলিশ ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত তাদের নিজ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মহেশখালী থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া দুজন যে শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং বাবা-ছেলে, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তারা কীভাবে সমুদ্রে ভাসছিলেন, সত্যিই ৩৬ দিন সাগরে ছিলেন কি না এবং তাদের পরিচয়-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























