নিউইয়র্ক ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্নেল (অব.) অলিকে কেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হলো, জানালেন নাহিদ ইসলাম

  • আপডেটের সময় : ০৭:০৩:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির অনীহার কারণেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পেছনের রাজনৈতিক কারণগুলো তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি কোনো আগ্রহ দেখায়নি। বরং তারা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর প্রথাগত পথেই হাঁটছে। জোটের পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বিএনপি যদি সংস্কারের পথে অগ্রসর হতো, তবে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু তারা সেই পথ পরিহার করায় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার থেকেই মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে প্রয়োজন হয়।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এর আগে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছিল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতায় তারা প্রার্থী দেবে না। তবে রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মতপার্থক্যের কারণে শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোট তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম দিনেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কর্নেল (অব.) অলিকে কেন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হলো, জানালেন নাহিদ ইসলাম

আপডেটের সময় : ০৭:০৩:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির অনীহার কারণেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার পেছনের রাজনৈতিক কারণগুলো তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সনদ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি কোনো আগ্রহ দেখায়নি। বরং তারা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর প্রথাগত পথেই হাঁটছে। জোটের পক্ষ থেকে আশা করা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বিএনপি যদি সংস্কারের পথে অগ্রসর হতো, তবে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু তারা সেই পথ পরিহার করায় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার থেকেই মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে প্রয়োজন হয়।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এর আগে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছিল যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাস্তবতায় তারা প্রার্থী দেবে না। তবে রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মতপার্থক্যের কারণে শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোট তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামিয়েছে।

Share this news as a Photo Card