নিউইয়র্ক ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরু জবাই নিয়ে জয়ের পথে বিজয় সরকার

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৭:৫৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহায় বা অন্য যেকোনো দিন গরু কিংবা বাছুর জবাই করার ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। 

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সোমবার (১৩ জুলাই) এই রায় দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশটিতে একটি বড় ধরনের ‘সংশোধন’ প্রয়োজন রয়েছে। 

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর বর্তমান তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম বা টিভিকে সরকার হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পর এই বড় আইনি জয় পেল। 

এর আগে গত সাতাশ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি দ্বিপাক্ষিক বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামিলনাড়ু রাজ্য জুড়ে সম্পূর্ণভাবে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার জন্য বিজয়ের প্রাদেশিক সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। 

হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকারের আইনজীবিরা সর্বোচ্চ আদালতে যুক্তি দেখান যে যেখানে বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গরু জবাই করার বৈধ অনুমতি রয়েছে, সেখানে আইনি বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো বিচারবিভাগীয় নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই টিকতে পারে না।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের যে ডিভিশন বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তাতে ছিলেন বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণন। তারা ১৯৭৬ সালের ওই পুরনো আদেশটির ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির কথা বলে এই রায় দিয়েছিলেন। 

রায়ের লেখক বিচারপতি স্বামীনাথন ভারতীয় সংবিধানের আটচল্লিশ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেছিলেন যে গো-সম্পদ ও দুগ্ধজাত গবাদি পশু রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেছিলেন যে ভারতীয় সভ্যতায় শ্রীকৃষ্ণের আমল থেকেই গরুকে একটি অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়ে আসছে।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেন যে তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবেই স্থানীয় নিয়ম মেনে কুরবানির ঈদে ব্যক্তিগত আঙিনায় বা ধর্মীয় জমায়েতে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে এবং অনেক হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসবে ঐতিহ্যবাহী পশু বলির প্রথা চালু রয়েছে। 

সামাজিক নেতারা যুক্তি দেন যে এই সমস্ত ধর্মীয় আচার কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা ওইসব সরকারি কসাইখানার নেই। তামিলনাড়ু সরকারও আদালতকে জানিয়েছে যে রাজ্যে পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালাগুলো পশু জবাইয়ের স্থান ও শর্তাদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও সেখানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো কথা বলা নেই।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৪৯০

১৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

গরু জবাই নিয়ে জয়ের পথে বিজয় সরকার

আপডেটের সময় : ০৮:২৭:৫৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু রাজ্যে ঈদুল আজহায় বা অন্য যেকোনো দিন গরু কিংবা বাছুর জবাই করার ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। 

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সোমবার (১৩ জুলাই) এই রায় দিয়ে স্পষ্ট করেছে যে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশটিতে একটি বড় ধরনের ‘সংশোধন’ প্রয়োজন রয়েছে। 

অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ুর বর্তমান তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম বা টিভিকে সরকার হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পর এই বড় আইনি জয় পেল। 

এর আগে গত সাতাশ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি দ্বিপাক্ষিক বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামিলনাড়ু রাজ্য জুড়ে সম্পূর্ণভাবে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার জন্য বিজয়ের প্রাদেশিক সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। 

হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকারের আইনজীবিরা সর্বোচ্চ আদালতে যুক্তি দেখান যে যেখানে বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট শ্রেণির গরু জবাই করার বৈধ অনুমতি রয়েছে, সেখানে আইনি বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো বিচারবিভাগীয় নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই টিকতে পারে না।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের যে ডিভিশন বেঞ্চ এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তাতে ছিলেন বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণন। তারা ১৯৭৬ সালের ওই পুরনো আদেশটির ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির কথা বলে এই রায় দিয়েছিলেন। 

রায়ের লেখক বিচারপতি স্বামীনাথন ভারতীয় সংবিধানের আটচল্লিশ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেছিলেন যে গো-সম্পদ ও দুগ্ধজাত গবাদি পশু রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেছিলেন যে ভারতীয় সভ্যতায় শ্রীকৃষ্ণের আমল থেকেই গরুকে একটি অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়ে আসছে।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতারা দাবি করেন যে তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবেই স্থানীয় নিয়ম মেনে কুরবানির ঈদে ব্যক্তিগত আঙিনায় বা ধর্মীয় জমায়েতে পশু কোরবানি দিয়ে থাকে এবং অনেক হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসবে ঐতিহ্যবাহী পশু বলির প্রথা চালু রয়েছে। 

সামাজিক নেতারা যুক্তি দেন যে এই সমস্ত ধর্মীয় আচার কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা ওইসব সরকারি কসাইখানার নেই। তামিলনাড়ু সরকারও আদালতকে জানিয়েছে যে রাজ্যে পশু সংরক্ষণ আইন এবং কসাইখানা সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালাগুলো পশু জবাইয়ের স্থান ও শর্তাদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও সেখানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো কথা বলা নেই।

সূত্র: এনডিটিভি

Share this news as a Photo Card