নিউইয়র্ক ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে সই করলেন ট্রাম্প

  • আপডেটের সময় : ০৫:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে প্রাথমিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের অধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সই হওয়া এই নতুন আদেশ দুটি আগের চেষ্টার চেয়ে কিছুটা সীমিত। একটি আদেশে বিদেশি কূটনীতিক ও আক্রমণকারী বাহিনীর সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রচলিত ব্যতিক্রমী আইনের পরিধি বাড়িয়ে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী’, অর্থ দিয়ে নাগরিকত্ব কেনা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুদের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় আদেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও পররাষ্ট্র দপ্তরকে উদ্দেশ্য করে কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে ‘দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং জানান, তার প্রশাসন এখন পদক্ষেপে কিছুটা পরিবর্তন আনছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প ১৪তম সংশোধনীর পুনঃব্যাখ্যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব আটকানোর জন্য প্রথম আদেশ দেন, যা গত জুনে সর্বোচ্চ আদালত আইনি ভিত্তিহীন বলে বাতিল করে দেয়।

সংবিধানের এই ধারাটি ১৮৬৮ সালে পাসের পর থেকে শুধুমাত্র মুক্ত দাসদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য ছিল বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে দাবি তুলেছিল, প্রধান বিচারক জন রবার্টস তা নাকচ করে দেন। বিচারক মন্তব্য করেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মুক্ত মানুষ এই অধিকার পাবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশ দুটিও আদালতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং বাতিল হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ কিম্বার্লি ওয়েহল আল জাজিরাকে জানান, জনপ্রিয়তায় ধস নামায় কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীকে পাশে পেতেই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

২৫৬ যাত্রী নিয়ে ইতালির বিমানবন্দরে ৬ ঘণ্টা ধরে আটকে আছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৭

০৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে সই করলেন ট্রাম্প

আপডেটের সময় : ০৫:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে প্রাথমিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের অধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সই হওয়া এই নতুন আদেশ দুটি আগের চেষ্টার চেয়ে কিছুটা সীমিত। একটি আদেশে বিদেশি কূটনীতিক ও আক্রমণকারী বাহিনীর সন্তানদের নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রচলিত ব্যতিক্রমী আইনের পরিধি বাড়িয়ে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী’, অর্থ দিয়ে নাগরিকত্ব কেনা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুদের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় আদেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও পররাষ্ট্র দপ্তরকে উদ্দেশ্য করে কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে ‘দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং জানান, তার প্রশাসন এখন পদক্ষেপে কিছুটা পরিবর্তন আনছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প ১৪তম সংশোধনীর পুনঃব্যাখ্যার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব আটকানোর জন্য প্রথম আদেশ দেন, যা গত জুনে সর্বোচ্চ আদালত আইনি ভিত্তিহীন বলে বাতিল করে দেয়।

সংবিধানের এই ধারাটি ১৮৬৮ সালে পাসের পর থেকে শুধুমাত্র মুক্ত দাসদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য ছিল বলে ট্রাম্প প্রশাসন যে দাবি তুলেছিল, প্রধান বিচারক জন রবার্টস তা নাকচ করে দেন। বিচারক মন্তব্য করেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মুক্ত মানুষ এই অধিকার পাবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশ দুটিও আদালতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং বাতিল হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ কিম্বার্লি ওয়েহল আল জাজিরাকে জানান, জনপ্রিয়তায় ধস নামায় কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীকে পাশে পেতেই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Share this news as a Photo Card