নিউইয়র্ক ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন না করায় পরিবারের ৫ জন মিলে মেরে ফেলল তরুণীকে

  • আপডেটের সময় : ০৭:১২:০৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে ভিন্ন জাতের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে তার শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত হিমানশি চৌধুরী আলিগড়ের গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিএ-এলএলবি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, হিমানশির প্রেমিক হর্ষিত বর্ষ্ণেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হিমানশির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ নষ্ট এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

আলিগড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) নীরজ জাদৌন জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় হিমানশির মা, দুই ভাই এবং দুই মামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে হর্ষিত উল্লেখ করেন, তিনি গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং একটি মেডিকেল স্টোর পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে হিমানশির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত হিমানশির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হর্ষিত বর্ষ্ণেয় বলেন, ‘হিমানশি বিএ-এলএলবির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আমরা শিগগিরই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার জাতের কারণে তার পরিবার সম্পর্ক মেনে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে হত্যা করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ পরিবারের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হিমানশি হর্ষিতের মেডিকেল স্টোরে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর তার দুই স্বজন সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে তাকে মারধর করেন। ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হর্ষিত, হিমানশি এবং তার পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়। লিখিত অঙ্গীকার নেওয়ার পর হিমানশিকে পরিবারের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

হর্ষিত আরও অভিযোগ করেন, তিনি হিমানশিকে একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় হিমানশি একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সম্পর্ক চালিয়ে গেলে তাকে এবং হর্ষিতকে হত্যা করা হতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুলাই রাতে পরিবারের সদস্যরা হিমানশিকে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দ্রুত তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

এসএসপি নীরজ জাদৌন বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ভারত: মোদি

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

২৬ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন না করায় পরিবারের ৫ জন মিলে মেরে ফেলল তরুণীকে

আপডেটের সময় : ০৭:১২:০৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে ভিন্ন জাতের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করতে গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে তার শেষকৃত্যও সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত হিমানশি চৌধুরী আলিগড়ের গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিএ-এলএলবি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, হিমানশির প্রেমিক হর্ষিত বর্ষ্ণেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হিমানশির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ নষ্ট এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

আলিগড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) নীরজ জাদৌন জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় হিমানশির মা, দুই ভাই এবং দুই মামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে হর্ষিত উল্লেখ করেন, তিনি গোন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং একটি মেডিকেল স্টোর পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে হিমানশির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত হিমানশির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হর্ষিত বর্ষ্ণেয় বলেন, ‘হিমানশি বিএ-এলএলবির শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আমরা শিগগিরই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার জাতের কারণে তার পরিবার সম্পর্ক মেনে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে হত্যা করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ পরিবারের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হিমানশি হর্ষিতের মেডিকেল স্টোরে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পর তার দুই স্বজন সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে তাকে মারধর করেন। ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হর্ষিত, হিমানশি এবং তার পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে যায়। লিখিত অঙ্গীকার নেওয়ার পর হিমানশিকে পরিবারের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

হর্ষিত আরও অভিযোগ করেন, তিনি হিমানশিকে একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় হিমানশি একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সম্পর্ক চালিয়ে গেলে তাকে এবং হর্ষিতকে হত্যা করা হতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুলাই রাতে পরিবারের সদস্যরা হিমানশিকে হত্যা করেন। পরে প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দ্রুত তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

এসএসপি নীরজ জাদৌন বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card