নিউইয়র্ক ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ফোন ছাড়া এক সেকেন্ডও থাকতেই পারেন না? জেনে নিন সাত উপায়

  • আপডেটের সময় : ০৬:৪৯:৩৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মুঠোফোনে আসক্তি দিনের পর দিন বাড়ছে। ঘরে বসে খাওয়ার সময়ও মানুষ আজকাল ফোনে মগ্ন থাকে। কেউ কারও সাথে সামনা সামনি বসে কথা বলবে এমনটা দেখায় যায় না। ঘরের ভেতরও একই কাণ্ড। ঘরভরা মানুষ, কিন্তু কারও সঙ্গে কারও যেন সংযোগ নেই। সবাই ব্যস্ত ফোন নিয়ে। যেন ফোন ছারা চলছেই না।

কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন, ঘুমানোর সময় বাদে এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া কেমন লাগবে?

বরং একটা সেকেন্ড সময় পেলেও ফোনটা একটু ঘাঁটাঘাঁটি করা, একই নোটিফিকেশন একশোবার দেখা এগুলো যেন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। যে কারণে আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় না বুঝেই ব্যয় করে ফেলছি এমন সব কাজে, যেগুলো আসলে আলাদা করে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ফোনের আসক্তি থেকে বাঁচতে চাইলে এই কাজগুলো করতে পারেন-

অ্যাপ ব্যবহারঅনেক অ্যাপ আপনাকে বলে দিতে পারে আপনি আপনার ফোনে কতটা সময় ব্যয় করেন এবং প্রতিটি অ্যাপে কতক্ষণ থাকেন। এমনকী যদি আপনি খুব বেশি সময় ফোন ব্যবহার না-ও করেন, তবুও এই অ্যাপগুলো আপনাকে আরও কম সময় নষ্ট করতে সাহায্য করবে। কারণ এগুলো আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে, আপনি যাকে কম সময় বলে মনে করছেন, নষ্ট করার জন্য সেটুকু মোটেই স্বল্প সময় নয়।

অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার

সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য যখন ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করেন, তখন ইমেইল, টেক্সট এবং সোশ্যাল মিডিয়া দেখার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনার ঘরে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি রাখুন। এতে ফোন থেকে দূরে থাকা সহজ হবে। অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে রাতে অন্য ঘরে ফোনটি চার্জে দেওয়া এবং সকালে এটি দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা।

হঠাৎ করে ব্যবহার বন্ধ করুন

কিছু বিশেষজ্ঞ ৩ দিনের জন্য ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এটি আপনাকে ফোনের খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে এবং এর পরিবর্তে নতুন, স্বাস্থ্যকর কিছু করার উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। আপনি ধীরে ধীরে আবার ফোন ব্যবহার শুরু করতে পারেন। যেমন, নির্দিষ্ট সময়ে শুধু কল এবং টেক্সট করা। তারপর যদি আপনি আবার ব্যবহার করতে চান, তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য কাজ শুরু করতে পারেন।

ডু নট ডিস্টার্ব

বেশিরভাগ স্মার্টফোনে এমন একটি সেটিং থাকে যা আপনাকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার ফোনের কিছু অংশ সীমিত করতে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এবং মধ্যরাতের পরে সমস্ত কল এবং অ্যালার্ট বন্ধ করতে পারেন।

প্রযুক্তিমুক্ত সময়

যদি আপনি ৩ দিনের জন্য আপনার ফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করতে না পারেন, তবে আপনার বাড়িতে ফোন-মুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে রাখুন। আপনি চাইলে অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসও এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সেটা হতে পারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রাতের খাবারের আগে এক ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময়, অথবা প্রতি শুক্রবার বিকেল। হাঁটতে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। 

অ্যালার্ট বন্ধ করুন

যদি আপনার ফোনটি প্রতি কয়েক সেকেন্ডে টেক্সট, ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটের জন্য বেজে না ওঠে, তবে সেটিকে উপেক্ষা করা সহজ হয়। ফোন চেক করার জন্য অপেক্ষা না করলেও সেগুলো সবই আসবে। সুতরাং অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এসব অ্যালার্ট। তাই সেগুলো বন্ধ রাখাই উত্তম।

শখের কোনো কাজ

বই পড়া বা আপনার পোষা বিড়ালটিকে নিয়ে পার্কে যাওয়ার মতো সহজ কিছু চেষ্টা করুন। এর কোনোটিরই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে বন্ধুদের কফি খেতে বা জগিং করতে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করুন। তাদের বলুন যে আপনি আপনার ফোন বন্ধ রাখছেন এবং তারাও হয়তো একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছোট ছোট বিরতি-যেমন এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া থাকা-মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস করা গেলে তা হতে পারে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর।

এক ঘণ্টা মোবাইল ছাড়া থাকলে ইতিবাচক যেসব পরিবর্তন ঘটতে পারে

মস্তিষ্কের বিশ্রাম: বারবার স্ক্রল না করলে মন শান্ত থাকে।

মনোযোগ: কাজ বা পড়াশোনায় মন আরও ভালোভাবে যায়।

সৃষ্টিশীলতা বাড়ে: মনের মধ্যে নতুন আইডিয়া জন্মায়।

মানসিক শান্তি: নিজের ভাবনা ও চারপাশের পরিবেশে বেশি সংযোগ অনুভূত হয়।

মানবিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়: পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আসল সংযোগ আসে।

সব সময় মুঠোফোনে যুক্ত থাকায় মানবিক যোগাযোগ ক্রমশই কমে যাচ্ছে। যার কারণে মুঠোফোন আমাদের ব্যক্তিজীবনের নানা সম্পর্ক বিনষ্ট করছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষত তরুণদের ওপর এই প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তাই দিচ্ছে। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজার ছাড়াল, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব

দায়িত্ব ছাড়লেন ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক উপদেষ্টা ক্লেভার-ক্যারন

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মোবাইল ফোন ছাড়া এক সেকেন্ডও থাকতেই পারেন না? জেনে নিন সাত উপায়

আপডেটের সময় : ০৬:৪৯:৩৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

মুঠোফোনে আসক্তি দিনের পর দিন বাড়ছে। ঘরে বসে খাওয়ার সময়ও মানুষ আজকাল ফোনে মগ্ন থাকে। কেউ কারও সাথে সামনা সামনি বসে কথা বলবে এমনটা দেখায় যায় না। ঘরের ভেতরও একই কাণ্ড। ঘরভরা মানুষ, কিন্তু কারও সঙ্গে কারও যেন সংযোগ নেই। সবাই ব্যস্ত ফোন নিয়ে। যেন ফোন ছারা চলছেই না।

কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন, ঘুমানোর সময় বাদে এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া কেমন লাগবে?

বরং একটা সেকেন্ড সময় পেলেও ফোনটা একটু ঘাঁটাঘাঁটি করা, একই নোটিফিকেশন একশোবার দেখা এগুলো যেন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। যে কারণে আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় না বুঝেই ব্যয় করে ফেলছি এমন সব কাজে, যেগুলো আসলে আলাদা করে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ফোনের আসক্তি থেকে বাঁচতে চাইলে এই কাজগুলো করতে পারেন-

অ্যাপ ব্যবহারঅনেক অ্যাপ আপনাকে বলে দিতে পারে আপনি আপনার ফোনে কতটা সময় ব্যয় করেন এবং প্রতিটি অ্যাপে কতক্ষণ থাকেন। এমনকী যদি আপনি খুব বেশি সময় ফোন ব্যবহার না-ও করেন, তবুও এই অ্যাপগুলো আপনাকে আরও কম সময় নষ্ট করতে সাহায্য করবে। কারণ এগুলো আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে, আপনি যাকে কম সময় বলে মনে করছেন, নষ্ট করার জন্য সেটুকু মোটেই স্বল্প সময় নয়।

অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার

সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য যখন ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করেন, তখন ইমেইল, টেক্সট এবং সোশ্যাল মিডিয়া দেখার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনার ঘরে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি রাখুন। এতে ফোন থেকে দূরে থাকা সহজ হবে। অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে রাতে অন্য ঘরে ফোনটি চার্জে দেওয়া এবং সকালে এটি দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা।

হঠাৎ করে ব্যবহার বন্ধ করুন

কিছু বিশেষজ্ঞ ৩ দিনের জন্য ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এটি আপনাকে ফোনের খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে এবং এর পরিবর্তে নতুন, স্বাস্থ্যকর কিছু করার উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। আপনি ধীরে ধীরে আবার ফোন ব্যবহার শুরু করতে পারেন। যেমন, নির্দিষ্ট সময়ে শুধু কল এবং টেক্সট করা। তারপর যদি আপনি আবার ব্যবহার করতে চান, তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য কাজ শুরু করতে পারেন।

ডু নট ডিস্টার্ব

বেশিরভাগ স্মার্টফোনে এমন একটি সেটিং থাকে যা আপনাকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার ফোনের কিছু অংশ সীমিত করতে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এবং মধ্যরাতের পরে সমস্ত কল এবং অ্যালার্ট বন্ধ করতে পারেন।

প্রযুক্তিমুক্ত সময়

যদি আপনি ৩ দিনের জন্য আপনার ফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করতে না পারেন, তবে আপনার বাড়িতে ফোন-মুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে রাখুন। আপনি চাইলে অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসও এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সেটা হতে পারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রাতের খাবারের আগে এক ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময়, অথবা প্রতি শুক্রবার বিকেল। হাঁটতে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। 

অ্যালার্ট বন্ধ করুন

যদি আপনার ফোনটি প্রতি কয়েক সেকেন্ডে টেক্সট, ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটের জন্য বেজে না ওঠে, তবে সেটিকে উপেক্ষা করা সহজ হয়। ফোন চেক করার জন্য অপেক্ষা না করলেও সেগুলো সবই আসবে। সুতরাং অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এসব অ্যালার্ট। তাই সেগুলো বন্ধ রাখাই উত্তম।

শখের কোনো কাজ

বই পড়া বা আপনার পোষা বিড়ালটিকে নিয়ে পার্কে যাওয়ার মতো সহজ কিছু চেষ্টা করুন। এর কোনোটিরই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে বন্ধুদের কফি খেতে বা জগিং করতে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করুন। তাদের বলুন যে আপনি আপনার ফোন বন্ধ রাখছেন এবং তারাও হয়তো একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছোট ছোট বিরতি-যেমন এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া থাকা-মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস করা গেলে তা হতে পারে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর।

এক ঘণ্টা মোবাইল ছাড়া থাকলে ইতিবাচক যেসব পরিবর্তন ঘটতে পারে

মস্তিষ্কের বিশ্রাম: বারবার স্ক্রল না করলে মন শান্ত থাকে।

মনোযোগ: কাজ বা পড়াশোনায় মন আরও ভালোভাবে যায়।

সৃষ্টিশীলতা বাড়ে: মনের মধ্যে নতুন আইডিয়া জন্মায়।

মানসিক শান্তি: নিজের ভাবনা ও চারপাশের পরিবেশে বেশি সংযোগ অনুভূত হয়।

মানবিক সম্পর্ক শক্তিশালী হয়: পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আসল সংযোগ আসে।

সব সময় মুঠোফোনে যুক্ত থাকায় মানবিক যোগাযোগ ক্রমশই কমে যাচ্ছে। যার কারণে মুঠোফোন আমাদের ব্যক্তিজীবনের নানা সম্পর্ক বিনষ্ট করছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষত তরুণদের ওপর এই প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তাই দিচ্ছে। 

Share this news as a Photo Card