নিউইয়র্ক ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত: এডিবির সতর্কতা

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪৯:৪৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন করে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক, জুলাই ২০২৬’-এ এমনটিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্য ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং পুরো এশীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

এডিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কার্যকর শুল্কহার ১.২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) মূলত দুটি বিশেষ পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে:

১. জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার: বাংলাদেশসহ ৫৪টি দেশকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২. ৩০১ ধারার আওতায় পর্যালোচনা: এই ধারার অধীনে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান ও ভিয়েতনামসহ ৬০টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও চলতি বছরের শুরুতে বাণিজ্যনীতি নিয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, তবে ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক এই তদন্ত ও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে। শুল্কের এই নতুন পরিধি, মাত্রা এবং কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিবি’র এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সংকেত। রপ্তানি খাতের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা সহজ বাণিজ্য পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এখন থেকেই কার্যকর শ্রম আইন ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার দিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আটক করল ইসরায়েল

মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল ইরান

১১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত: এডিবির সতর্কতা

আপডেটের সময় : ০৭:৪৯:৪৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন করে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক, জুলাই ২০২৬’-এ এমনটিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্য ব্যয়ই বাড়াবে না, বরং পুরো এশীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

এডিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কার্যকর শুল্কহার ১.২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) মূলত দুটি বিশেষ পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে:

১. জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার: বাংলাদেশসহ ৫৪টি দেশকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২. ৩০১ ধারার আওতায় পর্যালোচনা: এই ধারার অধীনে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান ও ভিয়েতনামসহ ৬০টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও চলতি বছরের শুরুতে বাণিজ্যনীতি নিয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, তবে ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক এই তদন্ত ও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে। শুল্কের এই নতুন পরিধি, মাত্রা এবং কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিবি’র এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সংকেত। রপ্তানি খাতের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বা সহজ বাণিজ্য পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এখন থেকেই কার্যকর শ্রম আইন ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার দিকে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

Share this news as a Photo Card