নিউইয়র্ক ০৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিকে বাঁচাতে অভিনব কায়দায় ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সমঝোতা

  • আপডেটের সময় : ০৭:১১:৩২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নেপথ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে একটি যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে এই সমঝোতা সম্ভব হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনীতিক, একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

তাদের দাবি, যুদ্ধের শুরুতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকলেও সমঝোতার পর সৌদি আরব কার্যত এসব হামলা থেকে রক্ষা পায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহনের একটি যৌথ উদ্যোগ পরিচালিত হয়ে আসছে, যার সঙ্গে আসিম মুনির ও আহমাদ বাহিদির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই উদ্যোগ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে তিন মাসের বেশি সময় সৌদি আরবের দিকে কোনো হামলা না হলেও, গত সপ্তাহান্তে তেহরান একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ওই কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর জেনারেল মুনির আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান এবং জানান, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপর থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি, এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে চেয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে রিয়াদ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ইস্যুতে ইসলামাবাদের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ভারত: মোদি

অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি

২৬ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সৌদিকে বাঁচাতে অভিনব কায়দায় ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সমঝোতা

আপডেটের সময় : ০৭:১১:৩২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নেপথ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে একটি যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে এই সমঝোতা সম্ভব হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কূটনীতিক, একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

তাদের দাবি, যুদ্ধের শুরুতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকলেও সমঝোতার পর সৌদি আরব কার্যত এসব হামলা থেকে রক্ষা পায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহনের একটি যৌথ উদ্যোগ পরিচালিত হয়ে আসছে, যার সঙ্গে আসিম মুনির ও আহমাদ বাহিদির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এই উদ্যোগ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে তিন মাসের বেশি সময় সৌদি আরবের দিকে কোনো হামলা না হলেও, গত সপ্তাহান্তে তেহরান একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ওই কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর জেনারেল মুনির আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান এবং জানান, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপর থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা সূত্রটির দাবি, এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে চেয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে রিয়াদ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ইস্যুতে ইসলামাবাদের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়।

Share this news as a Photo Card