নিউইয়র্ক ০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি

  • আপডেটের সময় : ০৭:২৯:৪৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের উজানে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১২ জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে দেশের কয়েকটি প্রধান নদীর পানি দ্রুত বাড়বে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই-তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে অথবা অতিক্রম করতে পারে। ফলে, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, তিস্তা অববাহিকার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা ও এর শাখা নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও বাড়ছে, যার প্রভাবে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের চরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশ করতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সকাল ৬টা ও ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে পানির উচ্চতা কমতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় বেলা ১১টায় বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, দুপুর ১২টায় ৬ সেন্টিমিটার, বেলা ২টায় ২ সেন্টিমিটার ও বিকেল ৪টায় স্বাভাবিক উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। তিস্তা ব্যারাজে পানির চাপ কমাতে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা রয়েছে। এদিকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। নদীতীরবর্তী বসতি, হাওরাঞ্চল ও গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠার শঙ্কার কথা জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।

উত্তর-মধ্যাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সোমেশ্বরী, ভোগাই, কংস ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে পারে এই সময়ে। বিশেষ করে, পাহাড়ি ঢলের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ভারতের উজানেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়বে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এটি আপাতত স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস। বৃষ্টিপাত কমে গেলে অধিকাংশ নদীর পানি ধীরে ধীরে নামতে পারে। তবে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।

এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নদীর পানি এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানকে কড়া হুঁশিয়ারি কিমের বোনের, নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবল ভারতীয় জাহাজ

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি

আপডেটের সময় : ০৭:২৯:৪৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

টানা বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের উজানে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১২ জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে দেশের কয়েকটি প্রধান নদীর পানি দ্রুত বাড়বে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই-তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে অথবা অতিক্রম করতে পারে। ফলে, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, তিস্তা অববাহিকার লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা ও এর শাখা নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও বাড়ছে, যার প্রভাবে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের চরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশ করতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সকাল ৬টা ও ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে পানির উচ্চতা কমতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় বেলা ১১টায় বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, দুপুর ১২টায় ৬ সেন্টিমিটার, বেলা ২টায় ২ সেন্টিমিটার ও বিকেল ৪টায় স্বাভাবিক উচ্চতায় প্রবাহিত হয়। তিস্তা ব্যারাজে পানির চাপ কমাতে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা রয়েছে। এদিকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়ছে। ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। নদীতীরবর্তী বসতি, হাওরাঞ্চল ও গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠার শঙ্কার কথা জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।

উত্তর-মধ্যাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সোমেশ্বরী, ভোগাই, কংস ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে পারে এই সময়ে। বিশেষ করে, পাহাড়ি ঢলের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ভারতের উজানেও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়বে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এটি আপাতত স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস। বৃষ্টিপাত কমে গেলে অধিকাংশ নদীর পানি ধীরে ধীরে নামতে পারে। তবে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।

এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নদীর পানি এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card