নিউইয়র্ক ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান

  • আপডেটের সময় : ০৭:১২:০২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান। এসব সম্পদ শনাক্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা অ্যাটাচ করে তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এসব সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে সফল হলে উদ্ধার করা অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে তারা। অর্থাৎ, ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।’ 

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কোনো সম্পদ শনাক্ত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে সেটি বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।

এর আগে শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিদেশে থাকা সম্পদ অনুসন্ধান ও উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম দিনেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা

১০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান

আপডেটের সময় : ০৭:১২:০২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান। এসব সম্পদ শনাক্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা অ্যাটাচ করে তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এসব সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে সফল হলে উদ্ধার করা অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে তারা। অর্থাৎ, ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।’ 

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কোনো সম্পদ শনাক্ত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে সেটি বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র।

এর আগে শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিদেশে থাকা সম্পদ অনুসন্ধান ও উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card