নিউইয়র্ক ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসহায়ত্বের সুযোগে দ্বিগুন ভাড়ায় চলছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স

  • আপডেটের সময় : ০৭:২২:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ১০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি এবং উপজেলা পরিষদের অধীন একটি মিলিয়ে মোট তিনটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। বাকি দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচজন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ কিলোমিটারে এক লিটার জ্বালানির ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে ইসলামপুর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে রোগীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। দরকষাকষি করলে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স না দেওয়ার কথাও বলা হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য, ৫০ শয্যার ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি নানা অনিয়মের কারণে অনেক রোগীকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জামালপুর বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।

উপজেলার দুর্গম চর সাপধরী ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করলে চালক জানান তিনি জেলা শহরে আছেন। পরে জামালপুর যাওয়ার ভাড়া জানতে চাইলে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন। জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

পাথর্শী ইউনিয়নের শাপলা আক্তার বলেন, তার এক স্বজনকে জামালপুরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারও ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মফিজ উদ্দিন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

অসহায়ত্বের সুযোগে দ্বিগুন ভাড়ায় চলছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স

আপডেটের সময় : ০৭:২২:২৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি এবং উপজেলা পরিষদের অধীন একটি মিলিয়ে মোট তিনটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। বাকি দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচজন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ কিলোমিটারে এক লিটার জ্বালানির ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে ইসলামপুর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে রোগীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। দরকষাকষি করলে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স না দেওয়ার কথাও বলা হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য, ৫০ শয্যার ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি নানা অনিয়মের কারণে অনেক রোগীকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জামালপুর বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।

উপজেলার দুর্গম চর সাপধরী ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করলে চালক জানান তিনি জেলা শহরে আছেন। পরে জামালপুর যাওয়ার ভাড়া জানতে চাইলে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন। জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

পাথর্শী ইউনিয়নের শাপলা আক্তার বলেন, তার এক স্বজনকে জামালপুরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ১ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারও ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মফিজ উদ্দিন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card