নিউইয়র্ক ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’: মার্কো রুবিও

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৪:৫৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি আদালতটিকে ‘বোকা একটি সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, আইসিসি এমন কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রয়োজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র কেন আইসিসির বিরোধিতা করছে। জবাবে রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং কখনোই আদালটির প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে অংশ নেয়নি। তাই মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির কোনো বিচারিক ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।’

রুবিও আরও বলেন, ‘আমরা আইসিসির সদস্য নই। আমরা কখনো সেই চুক্তিতে সই করিনি। আমরা কখনো এতে যোগও দিইনি। এরপরও তারা দাবি করছে, যারা ওই চুক্তির সদস্য নয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের আছে।’

তিনি জানান, আইসিসি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার এবং কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে বলে দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এটি আদালটির ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। রুবিও বলেন, ‘আইসিসিতে এমন কিছু উন্মাদ মানুষ আছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা বলছে। এমনকি বর্তমান বা ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার কথা বলছে। এটা কখনোই হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা এই সংস্থার সদস্য হতে চায়, তারা হতে পারে। কিন্তু আমরা এর সদস্য হব না। তারা মার্কিন নাগরিকদের ওপর তাদের বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে না।’

রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও আইসিসিকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন এখনো আদালটির দাবি মেনে নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না।’ তার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসিকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

১৩ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো আইসিসির কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা কমানো, মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির প্রতিষ্ঠার মূল চুক্তি ‘রোম সংবিধি’-তে যোগ দেয়নি। এরপরও আদালতটি মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের বিচার করার ক্ষমতা দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘অসহনীয় হুমকি’ হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, এর আগে আইসিসি মার্কিন সেনাসদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, আদালতটি ধীরে ধীরে এমন একটি বৈশ্বিক বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে চাইছে, যার ওপর কোনো জবাবদিহি নেই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইসিসির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ বাদ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে মার্কিন নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহ দেওয়া, আইসিসিকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং রোম সংবিধিতে যোগ না দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কাজ করা। এ ছাড়া আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরো ভিসা নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রুবিওর মন্তব্য ও পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদালটির দীর্ঘদিনের বিরোধ আরো তীব্র হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

চীনের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ডেলিভারিম্যান কবি ওয়াং জিবিং 

মার্কিন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

২৫ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আইসিসি ‘উন্মাদদের দ্বারা পরিচালিত বোকা সংস্থা’: মার্কো রুবিও

আপডেটের সময় : ০৮:২৪:৫৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি আদালতটিকে ‘বোকা একটি সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, আইসিসি এমন কিছু মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রয়োজন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র কেন আইসিসির বিরোধিতা করছে। জবাবে রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং কখনোই আদালটির প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে অংশ নেয়নি। তাই মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির কোনো বিচারিক ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।’

রুবিও আরও বলেন, ‘আমরা আইসিসির সদস্য নই। আমরা কখনো সেই চুক্তিতে সই করিনি। আমরা কখনো এতে যোগও দিইনি। এরপরও তারা দাবি করছে, যারা ওই চুক্তির সদস্য নয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের আছে।’

তিনি জানান, আইসিসি রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার এবং কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে বলে দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এটি আদালটির ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। রুবিও বলেন, ‘আইসিসিতে এমন কিছু উন্মাদ মানুষ আছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা বলছে। এমনকি বর্তমান বা ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার কথা বলছে। এটা কখনোই হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা এই সংস্থার সদস্য হতে চায়, তারা হতে পারে। কিন্তু আমরা এর সদস্য হব না। তারা মার্কিন নাগরিকদের ওপর তাদের বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে না।’

রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও আইসিসিকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন এখনো আদালটির দাবি মেনে নিচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও নেবে না।’ তার এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসিকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

১৩ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি কর্মসূচি শুরু করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো আইসিসির কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা কমানো, মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির প্রতিষ্ঠার মূল চুক্তি ‘রোম সংবিধি’-তে যোগ দেয়নি। এরপরও আদালতটি মার্কিন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের বিচার করার ক্ষমতা দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘অসহনীয় হুমকি’ হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, এর আগে আইসিসি মার্কিন সেনাসদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, আদালতটি ধীরে ধীরে এমন একটি বৈশ্বিক বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে চাইছে, যার ওপর কোনো জবাবদিহি নেই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আইসিসির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ বাদ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকে মার্কিন নাগরিকদের ওপর আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহ দেওয়া, আইসিসিকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং রোম সংবিধিতে যোগ না দেওয়া দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কাজ করা। এ ছাড়া আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরো ভিসা নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রুবিওর মন্তব্য ও পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, আইসিসির বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আদালটির দীর্ঘদিনের বিরোধ আরো তীব্র হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস

Share this news as a Photo Card