ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়োগপত্র নবায়ন ও পদে বহাল রাখার নামে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছা. হেলেনা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে।
এক কর্মীর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি এবং অর্থ দিতে না পারায় কাজে যোগ দিতে নিষেধ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শাকিল আহম্মেদ ২০২২ সাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুক-মশালচি পদে কর্মরত।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের নিয়োগপত্র না পেয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে কাজে আসতে নিষেধ করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু শাকিল নন, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আটজন আউটসোর্সিং কর্মচারীর কাছেই নিয়োগপত্র নবায়নের নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আল ওয়াফা সিকিউরিটি সার্ভিসেস নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে নিয়োগ ও পদ পরিবর্তন ঘিরে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। পান্না খাতুন নামের এক কর্মচারী ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আয়া পদ থেকে টিকিট ক্লার্ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিমু খাতুন নামের এক টিকিট ক্লার্ক ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় চাকরি হারিয়েছেন এবং তার জায়গায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া সিভিল সার্জনের নাম ব্যবহার করে শিমু খাতুন আট কর্মীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে কর্মচারীরা তাঁর কাছে ঘুষ দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন মন্ত্রী কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মনিরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, নিয়োগের সম্পূর্ণ বিষয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। এখানে আমার কোনো হাত নেই। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আউটসোর্সিংয়ের নিয়োগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হলেও কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অর্থ লেনদেন বা অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, আউটসোর্সিংয়ে টাকা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।


























