নিউইয়র্ক ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪২:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সম্প্রতি গঠিত যৌথ নিরাপত্তা জোট ‘মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আল মেয়াদিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা জোটভুক্ত তিন দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের ‘খানে মিল্লাত’ সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহেদী রহিমি চ্যানেলটিকে জানান, জোটভুক্ত হওয়ার জন্য ইরান একটি নিমন্ত্রণপত্র পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো এখন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে, যা ইরানের জন্য এক ধরনের জয়, কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মক্কায় এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে থাকা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, সদস্য যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বিষয়টিকে নাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর সঙ্গে তুলনা করলেও এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে স্পষ্ট করেছেন।জোটের দেশগুলো ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করা শুরু করেছে। এই জোটে ভবিষ্যতে মিশরসহ আরও সদস্য যুক্ত হতে পারে বলে আঙ্কারার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরান এখন পর্যন্ত এই সমঝোতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, জোটটি নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার একটি প্রমাণ।

ইরানের অন্তর্ভূক্তির দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত তিন দেশের গঠিত এই জোটের চরিত্র আমূল বদলে যাবে এবং এটি একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পরাশক্তিগুলো এখন নিজেদের সীমা বুঝতে শুরু করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

২৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তানের আমন্ত্রণ

আপডেটের সময় : ০৭:৪২:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের সম্প্রতি গঠিত যৌথ নিরাপত্তা জোট ‘মক্কা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার জন্য ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আল মেয়াদিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা জোটভুক্ত তিন দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের ‘খানে মিল্লাত’ সংবাদ সংস্থার প্রধান মেহেদী রহিমি চ্যানেলটিকে জানান, জোটভুক্ত হওয়ার জন্য ইরান একটি নিমন্ত্রণপত্র পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো এখন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে, যা ইরানের জন্য এক ধরনের জয়, কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিল।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মক্কায় এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে থাকা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, সদস্য যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বিষয়টিকে নাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর সঙ্গে তুলনা করলেও এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে স্পষ্ট করেছেন।জোটের দেশগুলো ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করা শুরু করেছে। এই জোটে ভবিষ্যতে মিশরসহ আরও সদস্য যুক্ত হতে পারে বলে আঙ্কারার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরান এখন পর্যন্ত এই সমঝোতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, জোটটি নিয়ে তেহরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার একটি প্রমাণ।

ইরানের অন্তর্ভূক্তির দাবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত তিন দেশের গঠিত এই জোটের চরিত্র আমূল বদলে যাবে এবং এটি একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

Share this news as a Photo Card