নিউইয়র্ক ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে শায়েস্তা করতে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী

  • আপডেটের সময় : ০৯:২৩:৫২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তেহরানকে নিজেদের শর্তে চুক্তিতে বাধ্য করতে নতুন, সৃজনশীল ও অভিনব কৌশল বা আইডিয়া চেয়েছেন মার্কিন সামরিক কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সম্প্রতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা সামরিক বিশ্লেষকদের একটি বড় দলের কাছে পাঠানো ই-মেইলে এই আহ্বান জানান।

সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ই-মেইলের মাধ্যমে এভাবে উন্মুক্তভাবে সবার কাছ থেকে কৌশল বা পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি বেশ অস্বাভাবিক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানকে দমাতে মার্কিন প্রশাসনের হাতে বর্তমানে কার্যকর বিকল্পের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত এবং প্রথাগত বিকল্পগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবসম্মত বা গ্রহণযোগ্য নয়।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, সেন্টকমের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কাজের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং তাদের দলের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে চলমান সামরিক পরিস্থিতিতে প্রচলিত বিকল্পগুলো ফুরিয়ে আসায় নতুন চিন্তাভাবনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করা এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী চুক্তির লক্ষণ দেখা যায়নি।

সৌদি যুবরাজের মধ্যস্থতা: সম্প্রতি ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আঞ্চলিক নেতাদের, বিশেষ করে সৌদি আরবের যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপ ও উত্তেজনাকেন্দ্রিক আলোচনার পর তিনি আপাতত সেই হামলা থেকে সরে আসেন।

সীমিত কার্যকারিতা: সিআইএ এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে ধরনের বিমান হামলা চালাচ্ছে, তা আলোচনার টেবিলে ইরানের অবস্থান পরিবর্তনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও স্বীকার করেছেন যে, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

মাটির নিচের স্থাপনা: মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ মাটির গভীরে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রস্তুতি বিবেচনা করলেও, প্রচলিত অস্ত্রে এসব স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন। এর জন্য স্থল সেনা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ট্রাম্প এই পথে হাঁটতে অনিচ্ছুক।

মার্কিন রাজনৈতিক ময়দানে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ জড়িয়ে না পড়া। কিন্তু বর্তমানে সংঘাতের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তাতে মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণহানির পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, তারা কেবল জয়লাভ করতে চান এবং প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে আঘাত করার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চান।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩৮ বছর পর ফোন করে নিজের দোষ স্বীকার করল খুনি, জট খুলছে রহস্যজনক খুনের

ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য অবৈধভাবে ইউরোপে পাচার করছে ইসরায়েল

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানকে শায়েস্তা করতে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী

আপডেটের সময় : ০৯:২৩:৫২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তেহরানকে নিজেদের শর্তে চুক্তিতে বাধ্য করতে নতুন, সৃজনশীল ও অভিনব কৌশল বা আইডিয়া চেয়েছেন মার্কিন সামরিক কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সম্প্রতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা সামরিক বিশ্লেষকদের একটি বড় দলের কাছে পাঠানো ই-মেইলে এই আহ্বান জানান।

সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ই-মেইলের মাধ্যমে এভাবে উন্মুক্তভাবে সবার কাছ থেকে কৌশল বা পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি বেশ অস্বাভাবিক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানকে দমাতে মার্কিন প্রশাসনের হাতে বর্তমানে কার্যকর বিকল্পের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত এবং প্রথাগত বিকল্পগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবসম্মত বা গ্রহণযোগ্য নয়।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, সেন্টকমের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কাজের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং তাদের দলের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে চলমান সামরিক পরিস্থিতিতে প্রচলিত বিকল্পগুলো ফুরিয়ে আসায় নতুন চিন্তাভাবনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করা এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী চুক্তির লক্ষণ দেখা যায়নি।

সৌদি যুবরাজের মধ্যস্থতা: সম্প্রতি ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আঞ্চলিক নেতাদের, বিশেষ করে সৌদি আরবের যুবরাজের সঙ্গে ফোনালাপ ও উত্তেজনাকেন্দ্রিক আলোচনার পর তিনি আপাতত সেই হামলা থেকে সরে আসেন।

সীমিত কার্যকারিতা: সিআইএ এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে যে ধরনের বিমান হামলা চালাচ্ছে, তা আলোচনার টেবিলে ইরানের অবস্থান পরিবর্তনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও স্বীকার করেছেন যে, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের ঘোষিত সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

মাটির নিচের স্থাপনা: মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ মাটির গভীরে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রস্তুতি বিবেচনা করলেও, প্রচলিত অস্ত্রে এসব স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন। এর জন্য স্থল সেনা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ট্রাম্প এই পথে হাঁটতে অনিচ্ছুক।

মার্কিন রাজনৈতিক ময়দানে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ জড়িয়ে না পড়া। কিন্তু বর্তমানে সংঘাতের যে ধারা তৈরি হয়েছে, তাতে মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রাণহানির পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, তারা কেবল জয়লাভ করতে চান এবং প্রতিপক্ষকে কঠোরভাবে আঘাত করার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চান।

Share this news as a Photo Card