নিউইয়র্ক ০৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখানেই শেষ নয়, ব্রাজিলের জন্য ‘নতুন চক্রের শুরু’ দেখছেন আনচেলত্তি

  • আপডেটের সময় : ০৮:২৭:৫০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায়কে শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন না কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই ব্যর্থতার মধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন ইতালিয়ান কোচ। তার ভাষায়, এটি ব্রাজিলের জন্য ‘নতুন চক্রের শুরু’।

অনেক বছর ধরেই প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না ব্রাজিল। তবু গত আটটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই তারা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। এবার ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ আটে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হলো সেলেসাওদের।

সোমবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘এই ফল স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে হতাশ করেছে। তবে আমি মনে করি না আমরা খারাপ একটি বিশ্বকাপ খেলেছি। বরং ভালোই খেলেছি এবং আজকের ম্যাচটিও আমাদের জেতা উচিত ছিল।’

ব্রাজিলের হারের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস। এরপর শেষ দিকে জোড়া গোল করে নরওয়েকে জয়ের পথ দেখান হালান্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুর্লের পর তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচে দুটি গোল করলেন।

পরিসংখ্যানও বলছে, ম্যাচটি ছিল সমানে সমান লড়াই। বলের দখলে এগিয়ে ছিল নরওয়ে, কিন্তু গোলের উদ্দেশে বেশি শট নিয়েছে এবং বেশি সুযোগ তৈরি করেছে ব্রাজিল। তবু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

এই ব্যর্থতায় হতাশ হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি আনচেলত্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই কোচ বলেন, ‘এ ধরনের পরাজয় মেনে নিতেই হয়। এটি নতুন একটি অভিজ্ঞতা। এখন আমাদের নিজেদের ধরে রাখতে হবে এবং আরও উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি শেষ। আমার বিশ্বাস, এটাই একটি নতুন চক্রের শুরু। বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্য আছে অনেক দূর যাওয়ার। আজকের ম্যাচের ফল সেটি বদলে দেয় না।’

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপাখরা আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার অপেক্ষা ২৮ বছরে গড়াবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউট পর্বে হতাশার ধারাও অব্যাহত থাকল। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউটে টানা সপ্তম হার দেখল সেলেসাওরা।

তবু আশাবাদ হারাচ্ছেন না আনচেলত্তি। তার বিশ্বাস, এই ধাক্কাই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো জাতীয় দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া, নিজেদের আরও উন্নত করা এবং নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা। ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। পরাজয়ের কষ্ট মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।’

দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘এই ফল অবশ্যই হতাশাজনক। আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু ছেলেরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমি মনে করি না এই ম্যাচে আমাদের হারার কথা ছিল। তবু ফুটবলে এমনটা ঘটে। এই হতাশাকে শক্তিতে পরিণত করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের ‘লজ্জার’ রেকর্ড গড়লেন মেসি

০৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এখানেই শেষ নয়, ব্রাজিলের জন্য ‘নতুন চক্রের শুরু’ দেখছেন আনচেলত্তি

আপডেটের সময় : ০৮:২৭:৫০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায়কে শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন না কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই ব্যর্থতার মধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন ইতালিয়ান কোচ। তার ভাষায়, এটি ব্রাজিলের জন্য ‘নতুন চক্রের শুরু’।

অনেক বছর ধরেই প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না ব্রাজিল। তবু গত আটটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতেই তারা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। এবার ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার শেষ আটে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হলো সেলেসাওদের।

সোমবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘এই ফল স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে হতাশ করেছে। তবে আমি মনে করি না আমরা খারাপ একটি বিশ্বকাপ খেলেছি। বরং ভালোই খেলেছি এবং আজকের ম্যাচটিও আমাদের জেতা উচিত ছিল।’

ব্রাজিলের হারের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিস। এরপর শেষ দিকে জোড়া গোল করে নরওয়েকে জয়ের পথ দেখান হালান্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির টনি ক্রুস ও আন্দ্রে শুর্লের পর তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচে দুটি গোল করলেন।

পরিসংখ্যানও বলছে, ম্যাচটি ছিল সমানে সমান লড়াই। বলের দখলে এগিয়ে ছিল নরওয়ে, কিন্তু গোলের উদ্দেশে বেশি শট নিয়েছে এবং বেশি সুযোগ তৈরি করেছে ব্রাজিল। তবু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

এই ব্যর্থতায় হতাশ হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি আনচেলত্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই কোচ বলেন, ‘এ ধরনের পরাজয় মেনে নিতেই হয়। এটি নতুন একটি অভিজ্ঞতা। এখন আমাদের নিজেদের ধরে রাখতে হবে এবং আরও উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি শেষ। আমার বিশ্বাস, এটাই একটি নতুন চক্রের শুরু। বর্তমান স্কোয়াডের সামর্থ্য আছে অনেক দূর যাওয়ার। আজকের ম্যাচের ফল সেটি বদলে দেয় না।’

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপাখরা আরও দীর্ঘ হলো। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার অপেক্ষা ২৮ বছরে গড়াবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নকআউট পর্বে হতাশার ধারাও অব্যাহত থাকল। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউটে টানা সপ্তম হার দেখল সেলেসাওরা।

তবু আশাবাদ হারাচ্ছেন না আনচেলত্তি। তার বিশ্বাস, এই ধাক্কাই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো জাতীয় দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া, নিজেদের আরও উন্নত করা এবং নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা। ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। পরাজয়ের কষ্ট মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।’

দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘এই ফল অবশ্যই হতাশাজনক। আমরা সবাই কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু ছেলেরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমি মনে করি না এই ম্যাচে আমাদের হারার কথা ছিল। তবু ফুটবলে এমনটা ঘটে। এই হতাশাকে শক্তিতে পরিণত করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

Share this news as a Photo Card