বার্সেলোনার নেগ্রেইরা কাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আবারও মুখ খুলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনিয়ো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এএস রোমার মুখোমুখি হওয়ার আগে ইতালিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পেনের এই চলমান বিতর্কের তীব্র সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ইতালীয় ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রেফারিং কেলেঙ্কারি ‘ক্যালচিওপোলি’র উদাহরণ টেনে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রোমার বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রাইম ভিডিও ইতালিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিনিয়ো আক্ষেপ করেন, স্পেনে নেগ্রেইরা কাণ্ডের এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পরিণতি হয়নি।
পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথাই বলব, ইতালীয়দের অভিনন্দন। জানেন কেন? কারণ ক্যালচিওপোলি সত্যিকার অর্থেই ক্যালচিওপোলি হয়েছে একমাত্র এই দেশেই। কারণ স্পেনে যা ঘটেছে, কী ঘটেছে তা সবাই জানে। কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। একেবারেই কিছু না।’
মামলাটির কোনো পরিণতি হবে কি না, এমন প্রশ্নে মরিনিয়ো ছিলেন স্পষ্টভাষী। তিনি বলেন, ‘যদি এর কোনো পরিণতিই না হয়, তাহলে এটি হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেফারিং দুর্নীতির কেলেঙ্কারি।’
মরিনিয়ো ২০০৬ সালে প্রকাশ্যে আসা ইতালীয় ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া কেলেঙ্কারি ক্যালচিওপোলির সঙ্গে তুলনা টানলেন। রেফারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ম্যাচের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে কলুষিত করার অভিযোগ উঠেছিল ওই ঘটনায়। তখন জুভেন্টাসের মহাব্যবস্থাপক লুসিয়ানো মোজ্জি ছিলেন কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান চরিত্র।
ওই ঘটনায় ইতালির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। জুভেন্টাসকে সিরি ‘বি’তে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ২০০৫ ও ২০০৬ সালের লিগ শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয় এবং পয়েন্টও কেটে নেওয়া হয়। এসি মিলান, লাজিও ও ফিওরেন্তিনার মতো ক্লাবও বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়ে। পরে দেওয়ানি আদালতেও দোষী সাব্যস্ত হন মোজ্জি।
ক্যালচিওপোলির সঙ্গে তুলনা টেনে মরিনিয়ো মূলত রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থানকেই আরও জোরালো করেছেন। স্প্যানিশ ক্লাবটির দাবি, নেগ্রেইরা কাণ্ডে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা সাবেক রেফারিং কমিটির সহসভাপতি হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরাকে অর্থ দিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের মতে, স্পেনে এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া ইতালিতে ক্যালচিওপোলির ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপের মতো হচ্ছে না।
স্পেনের বিচারব্যবস্থা যেখানে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে রিয়াল মাদ্রিদ মনে করে, সেখানে উয়েফা পদক্ষেপ নেবে এমন আশাও ধরে রেখেছে ক্লাবটি।


























