নিউইয়র্ক ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনআরবি ব্যাংকের ঋণখেলাপির দুই মামলায় রিজেন্টের সাহেদ গ্রেপ্তার

  • আপডেটের সময় : ০৬:৩৬:৫৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে ঋণখেলাপির দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৪-এর বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন এই আদেশ দেন। এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের করা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতে মামলা দুটিতে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের আইনি বিধান অনুযায়ী দাবিকৃত ঋণের ২৫ শতাংশ অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে এনআরবি ব্যাংক থেকে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন সাহেদ। পাশাপাশি তার নামে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ক্রেডিট কার্ডও ইস্যু করা হয়। দীর্ঘ সময়েও এই বকেয়া পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে অর্থঋণ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে। সুদ ও আসল মিলিয়ে সাহেদের কাছে ব্যাংকের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকায়। এই মামলায় আদালত ব্যাংকের পক্ষে ডিক্রি জারি করেন এবং পরবর্তীতে সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেন।

এর আগে চেক প্রতারণার অপর এক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত ২০ জুলাই সাহেদকে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনা মহামারির চরম সংকটের সময় নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাহেদের বিরুদ্ধে। সরকার ও রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এরপর একই বছরের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় র‍্যাবের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন।

গ্রেপ্তারের পর সাহেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার একটি কার্যালয় থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র‍্যাব। ওই ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে হাইকোর্ট ওই মামলায় তাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই রায় স্থগিত করেন।

নানা প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি সাজাপ্রাপ্তও হয়েছিলেন। পরে সব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে সম্প্রতি চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি আবারও কারাবন্দি হন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে: ইরান

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এনআরবি ব্যাংকের ঋণখেলাপির দুই মামলায় রিজেন্টের সাহেদ গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : ০৬:৩৬:৫৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে ঋণখেলাপির দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৪-এর বিচারক মো. মোশাররফ হোসেন এই আদেশ দেন। এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের করা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতে মামলা দুটিতে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থঋণ আদালতের আইনি বিধান অনুযায়ী দাবিকৃত ঋণের ২৫ শতাংশ অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে এনআরবি ব্যাংক থেকে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন সাহেদ। পাশাপাশি তার নামে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার একটি ক্রেডিট কার্ডও ইস্যু করা হয়। দীর্ঘ সময়েও এই বকেয়া পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে অর্থঋণ আদালতে দুটি মামলা দায়ের করে। সুদ ও আসল মিলিয়ে সাহেদের কাছে ব্যাংকের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকায়। এই মামলায় আদালত ব্যাংকের পক্ষে ডিক্রি জারি করেন এবং পরবর্তীতে সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেন।

এর আগে চেক প্রতারণার অপর এক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত ২০ জুলাই সাহেদকে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের জুলাই মাসে করোনা মহামারির চরম সংকটের সময় নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাহেদের বিরুদ্ধে। সরকার ও রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এরপর একই বছরের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় র‍্যাবের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন।

গ্রেপ্তারের পর সাহেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার একটি কার্যালয় থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র‍্যাব। ওই ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে হাইকোর্ট ওই মামলায় তাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই রায় স্থগিত করেন।

নানা প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে তিনি সাজাপ্রাপ্তও হয়েছিলেন। পরে সব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে সম্প্রতি চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি আবারও কারাবন্দি হন।

Share this news as a Photo Card